অনলাইন ডেস্ক : ময়মনসিংহের ত্রিশালে এডিপি ও রাজস্বের আওতায় ২০২২-২৩ অর্থবছরের ৩ কোটি ৩৫ লাখ ৭৬ হাজার টাকার উন্নয়নের বেশির ভাগ কাজই হয়নি। এ প্রকল্পের কাজ না করেই কয়েক কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে বলে অভি যোগ পাওয়া গেছে। তথ্য বিশ্লেষণ ও সরেজমিন ঘুরে জানা যা য়,উপজেলার মসজিদ,মাদরাসা,স্কুল-কলেজ,কবরস্থান ও সড় ক উন্নয়নের নাম করে বরাদ্দ দেখিয়ে এ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
ত্রিশাল চকপাড়া মাদরাসা সংলগ্ন নতুন জামে মসজিদে ৪০ লাখ টাকা,ঢাকা-ময়মনসিংহ আরএইচডি (নুরুর দোকান) থেকে দুলালের বাড়ি পর্যন্ত সড়ক এইচবিবি দ্বারা উন্নয়ন ১০ লাখ, ত্রি শাল সিটি মডেল স্কুল উন্নয়নের নামে ২ লাখ,কোনাবাড়ী সড়ক থেকে সাবেক মেম্বর তোফাজ্জলের বাড়ির সড়ক উন্নয়নে ৬ লাখ,ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে একটি কালভার্টের নামে বরাদ্ধ ৫ লাখসহ বিভিন্ন নামে-বেনামে কয়েক কোটি টাকা কাজ না করেই আত্মসাৎ করা হয়।
একই অর্থবছরে এ উপজেলা পরিষদের অফিস সহকারী তার গ্রামের বাড়ির রাস্তা ও কবরস্থান উন্নয়নে নিয়েছেন ৮ লাখ ১০ হাজার টাকা।এই রাস্তাটি তার ব্যক্তিগত ফিশারি ও ঘরের উঠান পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়েছে।অথচ এই অর্থবছরের কাজ গত ২০২ ৩ সালের অক্টোবর মাসে শেষ দেখিয়ে তৎকালীন ইউএনও জুয়েল আহমেদ মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন।
কাজ বাস্তবায়নের কাগজপত্রে তৎকালীন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জুয়েল আহমেদ,উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মতিন,উপজেলা উপপ্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম ও বর্ত মানে কর্মরত হিসাবরক্ষক শাহ আলমের স্বাক্ষর করলেও এতে রয়েছে অসংগতি।মন্ত্রণালয়ে ২০২৪ সালের ২৪জানুয়ারি কাজ বাস্তবায়নের প্রতিবেদন পাঠালেও কাগজেপত্রে স্বাক্ষর করেছে ন ৩১ জানুয়ারি।
সবার স্বাক্ষরে তারিখ থাকলেও উপজেলা চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর নিচে নেই তারিখ। এ অসংগতির বিষয়ে উপজেলার বর্তমান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি দিতে পারেননি কোনো সদুত্তর। ত্রিশাল সিটি মডেল স্কুলের নামে ২ লাখ টাকা বরাদ্দের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক ইমরান হাসান বুলবুলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না।
এ রকম সরকারি বরাদ্দের কোনো কাজ আমার স্কুলে হয়নি’ স্থানীয় বৈলর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য হারেছ বলেন, নুরুর দোকান থেকে দুলালের বাড়ি পর্যন্ত সড়ক এইচবিবি দ্বারা উন্নয়ন ১০ লাখ টাকার কাজটি করার কথা ছিল। কিন্তু পরে তারা এ কাজটি না করেই টাকা আত্মসাৎ করে খেয়ে ফেলেছে এ অর্থবছরের কাজ না হওয়ার বিষয়ে বর্তমান উপজেলা প্রকৌশলী শফিউল্লাহ খন্দকারের কাছে জানতে চাইলে তথ্য আড়াল করে একেক সময়ে দিয়েছেন একেক তথ্য।
প্রথমে তিনি জানান, এই অর্থবছরের চকপাড়া মসজিদের কাজ শেষ হবে বাকিগুলো সব শেষ হয়েছেএডিপি ও রাজস্বের কাজ বরাদ্দের অর্থবছরেই করার কথা বললে প্রতিবেদককে তিনি জানান, এ কাজের এখনো টেন্ডার হয়নি।
এ অর্থবছরের আরও অনেক উন্নয়ন কাজই বাস্তবায়ন করা হয়নি, কিন্তু মন্ত্রণালয়ে কাজ শেষ দেখিয়ে কীভাবে প্রতিবেদন দিলেন এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ওই সময় আমি ছিলাম না, নো কমেন্টস।
উপজেলা প্রকৌশল দফতরের হিসাবরক্ষক শাহ আলমের কাছে এই অর্থবছরের কাজ শেষ না হলেও কীভাবে প্রতিবেদন তৈরি ও স্বাক্ষর দিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি গ্যারান্টি দিলাম একশ পার্সেন্ট কাজ হয়েছে। বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি শাহ আলমকে ডেকে জিজ্ঞেস করেন—কাজ না করেই প্রতিবেদন পাঠানোর কারণ কী? তিনি উত্তরে বলেন, স্যার এই অর্থবছরের কোনো কাজই হয়নি।
এ বিষয়ে বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারির কাছে জানতে চাইলে প্রথমে তিনি কয়েকদিন সময় চান পরবর্তী সাক্ষাতে তিনি বলেন,ওই সময়ে আমি ছিলাম না কাজ শেষ না করেই কীভাবে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে তা আমার জানা নেই। তবে যদি কাজের টাকা পেমেন্ট না হয়ে থাকলে আত্মসাতের সুযোগ নেই। টাকা জমা থাকবে।
উপজেলার সাবেক উপসহকারী প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম বলেন,এ অর্থ বছরের সব কাজই শেষ হয়েছে।কাজ শেষ হয়ে ছে বলেই প্রতিবেদন পাঠিয়েছি।কাজ হওয়া না হওয়া পেমেন্টে র বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমি সঠিক বলতে পারব না। প্রকৌশলী মনির স্যার জানেন,আমি তো উপসহকারী প্রকৌ শলী। উপজেলার সাবেক প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, ওই অর্থবছরের মসজিদের কাজটি ছিল বড়। আমি বদলি হওয়ার আগে ওই কাজটির ওয়ার্কঅর্ডার দিতে পারিনি।
বাকি যে কাজগুলো সবগুলোই শেষ হয়েছে মসজিদসহঅনেক কাজই তো মাঠ পর্যায়ে হয়নি, তা হলে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হলো কীভাবে? উত্তরে তিনি বলেন,যদি মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন গিয়ে থাকে তাহলে সব কাজই শেষ হয়েছে।
উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা ও বর্তমান মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জুয়েল আহমেদের কাছে এ বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন,এ অর্থ বছরের সবগু লো কাজই শেষ হয়েছে বলেই মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দিয়েছি। কোনো কাজই দেখাতে পারবেন না, হয়নি।
এটা দেখার দায়িত্ব উপজেলা প্রকৌশল দফতরের তাদেরকে ধরতে পারেন। এ বিষয়ে আমার বলার কিছু নেই। এ সম্পর্কে বর্তমান জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,এ বিষয়ে আমি অবগত নই”আপনার কাছে কি ডকু মেন্টস আছে পাঠান, বিষয়টি আমি পরে দেখছি।
তথ্য সুত্র : রংধনু টিভি