নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ বিদ্যমান আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক সংকট ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় উত্তরণে জননেত্রী শেখ হাসিনার ২১ দফা
————–
প্রিয় দেশবাসী,
বাংলাদেশ আজ ভয়াবহ এক সংকটকাল অতিক্রম করছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সুমহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশ আজ উগ্র-সাম্প্রদায়িক জঙ্গি অপশক্তি ও বিদেশি ক্রীড়নকদের দানবীয় তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড, বিপন্ন; এ যেন এক ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত জনপদ!
এক কথায় বলতে গেলে, গোটা দেশ আজ বন্দী কারাগার, বধ্যভূমি, মৃত্যু উপত্যকা! চারিদিকে শুধু ধ্বংস আর নরনারীর বাঁচার আকুতি, করুণ আর্তনাদ! প্রকম্পিত চারদিক! সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা প্রিয় স্বদেশভূমি আজ গণশত্রু, খুনি-ফ্যাসিস্ট, সুদখোর, অর্থ পাচারকারী, অর্থ-আত্মসাৎকারী, লুটেরা, দুর্নীতিবাজ, ক্ষমতালোভী ইউনূসের সর্বগ্রাসী দানবীয় কর্মকাণ্ডে বিবর্ণ হয়ে পড়েছে।
প্রিয় দেশবাসী,
গত ৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রে গণশত্রু, খুনি-ফ্যাসিস্ট ইউনূস ও তার দেশবিরোধী জঙ্গি দোসররা ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’ এর মাধ্যমে জোরপূর্বক তাঁকে দেশত্যাগে বাধ্য করে। এরপর থেকে দেশব্যাপী জনগণের উপর নেমে আসে অত্যাচার, নির্মম-নিষ্ঠুর-বিভীষিকাময় এক আঁধার।
গণতন্ত্র আজ নির্বাসনে, মানবাধিকার ভূলুণ্ঠিত! গণমাধ্যমের স্বাধীনতা লুপ্ত! নারীর প্রতি ভয়াবহ সহিংসতা-নির্যাতন-ধর্ষণ! মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নেই! ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর উপর নির্যাতন-নিপীড়ন চলছেই! আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি! দেশের কেন্দ্র থেকে প্রান্তে লাগামহীন মবসন্ত্রাস, গণডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি! শিক্ষাঙ্গনে নৈরাজ্য, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে! উগ্র জঙ্গি ও সাম্প্রদায়িকগোষ্ঠীর উন্মাদনা গোটা জাতিকে শঙ্কিত করে তুলেছে! বাংলাদেশের ভূখণ্ড ও সম্পদ বিদেশিদের কাছে তুলে দেবার ষড়যন্ত্র চলছে। গণশত্রু, খুনি-ফ্যাসিস্ট ইউনূস গোটা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে বহুজাতিক যুদ্ধের মধ্যে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে ঠেলে দিচ্ছে! দেশের এই চরম সংকটে গোটা জাতিকে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত ও ঐক্যবদ্ধ করে বিদেশি তাবেদার খুনি-ফ্যাসিস্ট ইউনূস ও তার পুতুল সরকারকে হটাতে হবে। যে কোনো মূল্যে- বীর বাঙালি, বিজয় একাত্তর, রক্তের অক্ষরে লেখা সংবিধান, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও রক্ষা করতে হবে।
আসুন, আমরা স্বাধীনতার সপক্ষের সকল গণতান্ত্রিক-প্রগতিশীল-অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তি-সংগঠনসমূহ একটি উদার গণতান্ত্রিক, মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তোলার শপথ গ্রহণ করি এবং গণশত্রু, খুনি-ফ্যাসিস্ট ইউনূস গংদের দেশবিরোধী অপকার্যক্রমকে শক্ত হাতে প্রতিহত করি।
গণশত্রু, খুনি-ফ্যাসিস্ট ইউনূসের ফ্যাসিস্ট তন্ত্রের যাঁতাকলে পিষ্ট আজ দেশের সর্বস্তরের জনসাধারণ। বাংলার সেই নির্যাতিত-নিপীড়িত-নিগৃহীত জনসাধারণের পক্ষে শান্তি-গণতন্ত্র-সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের স্বপ্নসারথি দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর দাবিসমূহ:
১) অবিলম্বে অসাংবিধানিক, অবৈধ, দখলদার, খুনি-ফ্যাসিস্ট ইউনূস গংদের ক্ষমতা ছাড়তে হবে এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্ট তন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার উত্তরণ নিশ্চিত করতে হবে।
২) ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় প্রধান বিচারপতি জনাব ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি জনাব এনায়েতুর রহীমের বাসভবনে খুনি ও ফ্যাসিস্ট ইউনূসের মেটিকুলাস ডিজাইন অনুযায়ী ইউনূসের লেলিয়ে দেয়া মব সন্ত্রাসীরা ব্যাপক আক্রমণ, লুটতরাজ ও ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ চালায় এবং সেখান থেকে মাননীয় বিচারপতিদ্বয় কোনো রকম প্রাণ বাঁচাতে আত্মগোপনে চলে যান । বাংলাদেশের সংবিধানের ১০৬ ধারায় লিপিবদ্ধ রয়েছে যে সংবিধানের মৌলিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হলে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে সম্মিলিতভাবে মতামত-সহ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে খুনি-ফ্যাসিস্ট ইউনূস সংবিধান লঙ্ঘন ও মহামান্য সুপ্রিম কোর্টকে চরম অবমাননা করে মিথ্যা, জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা জোরপূর্বক দখল করে নেয়। এই অসাংবিধানিক, অবৈধ খুনি-ফ্যাসিস্ট ইউনূসের জোরপূর্বক রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল সংক্রান্ত বিষয়ে তদন্তপূর্বক সংবিধান সম্মত কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে ।
৩) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত রাজনৈতিক বিদ্বেষ-প্রসূত ও প্রতিহিংসামূলক ভিত্তিহীন সকল মামলা কালবিলম্ব না করে প্রত্যাহার করতে হবে।
৪) বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়-সহ বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। একই সাথে বঙ্গবন্ধু পরিবারের বিরুদ্ধে দেশে ও বিদেশে গণশত্রু ইউনুস গংয়ের ভিত্তিহীন নির্লজ্জ মিথ্যাচার বন্ধ করতে হবে।
৫) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও ১৪-দলীয় জোটের জাতীয় নেতৃবৃন্দ, মন্ত্রীপরিষদ সদস্যবৃন্দ, জাতীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ, ছাত্র-যুবক-শ্রমিক-নারী-মুক্তিযোদ্ধা-সংস্কৃতিকর্মী-শিল্পী-লেখক-আইনজীবী-সাংবাদিক-প্রকৌশলী-চিকিৎসক-কৃষিবিদ-পেশাজীবী-সহ গ্রেফতারকৃত সকলের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে এবং অনতিবিলম্বে দায়েরকৃত ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
৬) বিশ্বজন স্বীকৃত “আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল” (আইসিটি) নীতিমালা লঙ্ঘন করে ভিন্ন মতাবলম্বীদের নিশ্চিহ্ন করার হীন উদ্দেশে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অবৈধ কার্যক্রম, প্রহসনের বিচার ও আদালত বিলুপ্তপূর্বক সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
৭) আমাদের সুমহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও জাতিগত সকল মহতী অর্জনের নেতৃত্বদানকারী ঐতিহ্যমণ্ডিত, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং নির্বাচন কমিশন কর্তৃক দলীয় নিবন্ধন স্থগিতকরণ; এমন গণতন্ত্রবিরোধী, স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে। স্বাধীনতার সপক্ষের সকল গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল রাজনৈতিক সংগঠন ও ছাত্র-যুব-পেশাজীবী সংগঠনসমূহের রাজনীতি করার অধিকার সুনিশ্চিত করতে হবে।
৮) বিদেশি তাঁবেদার , গণশত্রু, খুনি-ফ্যাসিস্ট ইউনূস গং কতৃক বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব-বিনাশী তথাকথিত ‘মানবিক করিডর সহযোগিতা প্রদান’, সেন্ট মার্টিন, চট্টগ্রাম বন্দর ও মাতার বাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে দেবার ষড়যন্ত্রমূলক অপকার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।
৯) দেশের সর্বোচ্চ আদালত ও তার সকল অধঃস্তন বিচারিক শাখাসমূহ, জনপ্রসাশন, নির্বাচন কমিশন, দুদক, পুলিশ, আনসার, ব্যাংক, সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনির্বাচিত সরকারের এখতিয়ার বহির্ভূত অযাচিত হস্তক্ষেপে পদায়ন, চাকুরিচ্যুতির অবৈধ সিদ্ধান্ত বাতিল করে চাকুরিচ্যুতদের পুনর্বহাল ও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
১০) ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই থেকে আগস্ট এবং আজ পর্যন্ত আন্দোলনের নামে সকল হত্যাকাণ্ড অগ্নিসংযোগ লুটপাট-সহ ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর ক্ষমতালোভী খুনি-ফ্যাসিস্ট ইউনূসের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ তত্ত্বাবধানে তার স্বীকারোক্তি (মেটিকুলাস ডিজাইন) অনুযায়ী দেশব্যাপী আন্দোলনের নামে জঙ্গি তৎপরতার মাধ্যমে যে নারকীয় তাণ্ডব চালানো হয়েছিলো – সেগুলোর বিচার বিভাগীয় সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে।
এসকল দেশবিরোধী ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে তিন সহস্রাধিক পুলিশ ও অসংখ্য ছাত্র-জনতা হত্যা,আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতাকর্মী হত্যা, বাঙালির পবিত্র তীর্থভূমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক বাসভবন,জাতীয় সংসদ ভবন,গণভবন,প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়,বাংলাদেশ টেলিভিশন, মেট্রোরেল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যুরো,সড়ক ও সেতু ভবন,রেল ও বাসে অগ্নিসংযোগ,রেললাইন উপড়ে ফেলা,৪৬০টি থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে অগ্নিসংযোগ,অস্ত্রলুট,হাজার হাজার ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়া,লুটপাট,নারী ধর্ষণ,ব্যবসাবাণিজ্য দখল-সহ নির্মম নিষ্ঠুরতা চালিয়েছে। এসকল ন্যাক্কারজনক ঘটনার আইনানুগ সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তি ও সংগঠনকে দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তি দিতে হবে।
১১) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু, জাতীয় সংগীত,জাতীয় পতাকা, দে শের সংবিধান এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের অবিনাশী চেতনার সকল স্মৃতিচিহ্ন, বাঙালির হাজার বছরের কৃষ্টি-সংস্কৃতি-ইতিহাস ও ঐতিহ্য মুছে ফেলার ষড়যন্ত্রমূলক অপতৎপরতা রুখে দাঁড়াতে হবে। যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার শহীদ মিনার ধ্বংস সাধন করেছে ; তাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
১২) গণমাধ্যমের উপর দমন-নিপীড়ন-নির্যাতন ও কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা বন্ধ করতে হবে। সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। গ্রেফতারকৃত সাংবাদিকদের নিঃশর্ত মুক্তি ও দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা নিঃশর্ত প্রত্যাহার করতে হবে। গণমাধ্যমের ছিনতাইকৃত স্বত্ব স্বত্বাধিকারীদের কাছে ফেরত দিতে হবে।
১৩) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় অবমাননাকর আচরণ ও ধ্বংসাত্মক অপকার্য কলাপ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। ধ্বংসপ্রাপ্ত বঙ্গবন্ধু বাসভবন, বঙ্গবন্ধুর ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রতিকৃতি, সাত বীরশ্রেষ্ঠ, মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনার, স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের স্মৃতিসৌধ, বধ্যভূমি, স্বাধীনতা জাদুঘর পুনর্গঠন ও পুনর্নির্মাণ করতে হবে৷
১৪) স্বাধীনতাবিরোধী চিহ্নিত জঙ্গি অপশক্তির নিকট হতে লুণ্ঠিত অস্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে এবং উগ্র জঙ্গি ও নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
১৫) শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য বন্ধ করতে হবে। মবসন্ত্রাসের মাধ্যমে শিক্ষকদের জোরপূর্বক পদত্যাগ ও ভিন্নমতাবলম্বী শিক্ষার্থীদের ছাত্রত্ব বাতিলের ফ্যাসিস্ট সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারপূর্বক ক্ষতিপূরণসহ ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দিতে হবে।
১৬)হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান-আদিবাসী-উপজাতি ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উপর উগ্র সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গিবাদীদের নিদারুণ,নির্মম,নিষ্ঠুর, বর্বরোচিত,অমানবিক,নারকীয়,পাশবিক সন্ত্রাস বন্ধ করতে হবে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জান-মালের নিরাপত্তা বিধান ও উপাসনালয়গুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সংবিধান মোতাবেক ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ধর্ম পালনের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। উগ্র জঙ্গিবাদী অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে। জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির/গীর্জা/প্যাগোডা/মাজার/ধর্মীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সংস্কার করতে হবে। গ্রেফতারকৃত ধর্মীয় সংখ্যালঘু নেতৃবৃন্দের নিঃশর্ত মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
১৭) নারীর প্রতি সহিংসতা,ধর্ষণ-নির্যাতন ও নারী অবমাননা বন্ধ করতে হবে নারী ও শিশুর নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিতকরতে হবে নারীকে ঘরে আবদ্ধ করে রাখার মধ্যযুগীয় পশ্চাদপদ মানসিকতা রুখে দিতে হবে।
১৮) নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যমূল্য হ্রাস করে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনতে হবে। খুনি-ফ্যাসিস্ট ইউনূস গংয়ের অদক্ষ নেতৃত্ব, লাগামহীন দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সিন্ডিকেটবাজির কারণে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম এখন আকাশচুম্বী! অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষগুলো! একদিকে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, অন্যদিকে জনগণের কাঁধে অতিরিক্ত ভ্যাট/ট্যক্সের বোঝা! নিম্ন আয়ের মানুষগুলোর নাই কোন মৌলিক অধিকার! ভূমিহীন, গৃহহীন যারা বিগত ১৫ বছরে নিজের আবাস পেয়েছিল; তারা আবারও হয়ে গেছে ভূমিহীন গৃহহীন! যারা জীবন চালানোর পথ খুঁজে পেয়েছিল; তারা আজ কর্ম হারিয়ে, বাসস্থান হারিয়ে দরিদ্র থেকে নিঃস্ব হয়েছে! দেশের দুঃখী এই মানুষগুলোর পেটে যারা লাথে মারে, মৌলিক অধিকার যারা হরণ করে; সেই গরীব-মারা গণশত্রু, খুনি-ফ্যাসিস্ট ইউনূস গংদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার এখনই সময়।
১৯) গণশত্রু, খুনি-ফ্যাসিস্ট
ইউনূসের অদক্ষ, অদূরদর্শী নেতৃত্বে দেশের পোশাকশিল্প থেকে শুরু করে বিভিন্ন কলকারখানা আজ বন্ধ! লক্ষ লক্ষ দরিদ্র শ্রমি ক আজ চাকুরিহীন/কর্মহীন! দেশের অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়ে ছে।আর্থিকখাতের ভঙ্গুর অবস্থা!দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে! বিদেশি বিনিয়োগ এখন শূন্যের কোঠায়! মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সুদক্ষ,বলিষ্ঠ নে তৃত্বে বিশ্বদরবারে সমাদৃত প্রিয় মাতৃ্ভূমি বাংলাদেশের অর্থনৈতি ক অদম্য অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে গণশত্রু, খুনি-ফ্যাসিস্ট ইউনূসের দেশধ্বংসের ষড়যন্ত্র; রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ।
২০) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীকে খুনি-ফ্যাস্টিস্ট ইউনূসের প্রত্যক্ষ নির্দেশে অন্যায়ভাবে কারান্তরীণ রাখা হয়েছে। কারা-অভ্যন্তরে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতাকর্মী অকথ্য নির্যাতনে এবং সুচিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েছে! এভাবে আওয়ামী লীগ নিধনের নতুন কৌশলে মেতে উঠেছে খুনি-ফ্যাসিস্ট ইউনূস গং
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ,সহযোগী সংগঠন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে র ব্যক্তি-সংগঠন,প্রগতিশীল ব্যক্তিবর্গ-সহ ১৪ দলীয় নেতাকর্মী রা কারা-অভ্যন্তরে থাকা সন্তানের কষ্টে,শোকে,দুঃখে বয়স্ক পি তা-মাতা দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছে; পিতা-মাতার লাশ দেখা তো দূরের কথা জানাজা পর্যন্ত পড়তে দেয়া হয় নি; এটা মানবা ধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।অনতিবিলম্বে অন্যায়ভাবে গ্রেফতারকৃ ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীর নামেমিথ্যা মামলা প্রত্যাহারপূর্বক নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। কারা-অভ্যন্তরে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর মৃত্যুর কারণ বিচার বিভাগীয় তদন্তের মধ্য দিয়ে রহস্য উদ্ঘাটন-পূর্বক দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
২১)গোটা দেশটাই এখন মবসন্ত্রাসের অভয়ারণ্য।২০২৪ সালে ৫ আগস্ট থেকে শুরু করে অদ্যাবধি;দেশব্যাপী বাংলাদেশ আ ওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতাকর্মী,সাংবাদিক,আইনজীবী,লেখক ,শিক্ষক,আমলা,সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ অসংখ্য অসাম্প্রদায়িক-প্রগতিশীল মানুষদের উপর গণশত্রু, মবসন্ত্রাসের হোতা,খুনি-ফ্যাসিস্ট ইউনূসের প্রত্যক্ষ মদদে তার “মব সন্ত্রাস বাহিনী”
নির্বিচারে মব সন্ত্রাস চালায়, যা আজও দোর্দণ্ড প্রতাপে চলমান। মধ্যযুগীয় কায়দায় শত শত মানুষকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে ঝুলিয়ে, কুপিয়ে, গলা কেটে, মাথা থেথলে দিয়ে, জ্যান্ত পুড়িয়ে, রগ কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে! শত-সহস্র মানুষ আজও পঙ্গুত্ব বরণ করছে, কেউ কেউ জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে! কেউ ওদের থেকে নিরাপদ নয়! দেশকে রক্ষা করতে অবিলম্বে এই মব সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
প্রিয় দেশবাসী,
আজ এটা কারো অজানা নয় যে—গণশত্রু, খুনি-ফ্যাসিস্ট ইউনূস একজন সুদখোর মহাজন, দুর্নীতিবাজ, অর্থ-আত্মসাৎকারী, অর্থ পাচারকারী , ক্ষমতালোভী, আন্তর্জাতিক উগ্র-সাম্প্রদায়িক জঙ্গিগোষ্ঠীর প্রতিভূ, মবসন্ত্রাসের হোতা; জঙ্গি ইউনূস টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানির শ্রমিকদের অর্থ আত্মসাৎ মামলায় শ্রম আদালত কর্তৃক সাজা প্রাপ্ত আসামি। সর্বোপরি বাংলাদেশবিরোধী অপশক্তির শিরোমণি, যা আজ বাংলাদেশের জনগণের কাছে দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট। গরীবের রক্তচোষা যার নেশা ও পেশা; সেই খুনি-ফ্যাসিস্ট ইউনূস অবৈধভাবে প্রধান উপদেষ্টা পদ দখলের (৮ আগস্ট ২০২৪) পর থেকে গরীবের রক্ত চোষা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায়- তার ও “গ্রামীণ” সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে নিয়েছেন- অবৈধ, অনৈতিক, নানা সুবিধা, যা ইতিহাসে বিরল। নিজের ৬৬৬ কোটি টাকা কর মওকুফ, ৫ বছরের জন্য গ্রামীণ ব্যাংকের কর মওকুফ, গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি অনুমোদন, গ্রামীণ এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেস লি. এর নামে জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্সপ্রাপ্তি, গ্রামীণ মেডিকেল কলেজ অনুমোদন, উত্তরা ও পূর্বাচলে কয়েক শতক একর জমি ক্রয়, গ্রামীণ টেলিকমের নামে ডিজিটাল ওয়ালেট চালু, দেশের একমাত্র অংশীজন প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্টার লিংকের সাথে গ্রামীণ টেলিকমের ব্যবসা, গ্রামীণ ব্যাংকে সরকারী অংশীদারিত্ব ২৫% থেকে কমিয়ে ১০%-এ আনা; এছাড়া শ্রম আইনভিত্তিক ৫ টি মামলা, গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক কল্যাণ তহবিল দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলা, অর্থ পাচার মামলা থেকে নজিরবিহীনভাবে নিজের সাজা ‘মওকুফ’করণ; এসবের পাশাপাশি দেশের জনগণ এখন প্রত্যক্ষ করছে খুনি-ফ্যাসিস্ট ইউনূসের ক্ষমতালিপ্সা, লুটপাটতন্ত্র; শেয়ারবাজার থেকে এক লক্ষ কোটি টাকা লুট, বৈদেশিক বিনিয়োগ শূণ্য, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্থবির! ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’-এ চলছে দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করার যাবতীয় দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড!
দেশ বাঁচাতে, মানুষ বাঁচাতে- গণশত্রু, খুনি-ফ্যাসিস্ট ইউনূস গং এর দেশধ্বংস-কার্যক্রম
প্রতিরোধ করতে, প্রতিহত করতে- যূথবদ্ধ হোন, রুখে দাঁড়ান।
প্রিয় দেশবাসী,
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ “দিন বদলের সনদ”-শিরোনামে ইশতেহারে ছাত্র-যুব-তারুণ্যের জন্য ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিল। উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর মেধা, জ্ঞান ও দক্ষতাভিত্তিক যুব-তারুণ্য সৃষ্টির লক্ষ্যেই ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ করেন। সেই থেকে বাংলাদেশের যুব-তারুণ্য তথ্য-প্রযুক্তি জ্ঞান, মেধা ও দক্ষতা দিয়েই আত্মনির্ভরশীল হওয়া শুরু করলো। তরুণদের জন্য বঙ্গবন্ধুকন্যার দূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে তরুণরা শুধু চাকরির পিছনে না ছুটে নিজেরাই উদ্যোক্তা হবার স্বপ্ন দেখলো, তাদের সেই স্বপ্ন বাস্তব রূপ পেল। ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে বাংলাদেশ ” স্মার্ট বাংলাদেশ”-এর পথে হাঁটা শুরু করলো। বেকারত্বের হার কমতে শুরু করলো। বাংলাদেশের তারুণ্যের সেই বিশাল অর্জন, বিশাল অগ্রযাত্রাকে দেশবিরোধী গোষ্ঠী কখনও ভালভাবে নেয় নি। ৫ আগস্টের জঙ্গি-উত্থান ছিল মূলত এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের বিরুদ্ধে, তারুণ্যের জয়যাত্রার বিরুদ্ধে। ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’-এ সেদিন মিথ্যাচারে মোহাবিষ্ট করে বিভ্রান্ত একটা সময় ছু্ঁড়ে দেয়া হয় যুব-তারুণ্যের সামনে। সে সকল যুব-তারুণ্যের কাছে আজ গণশত্রু, খুনি-ফ্যাসিস্ট ইউনূসের অবৈধভাবে ক্ষমতাদখল, সকল দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র সম্পর্কিত বিষয় দিবালোকের ন্যায় পরিষ্কার। যুব-তারুণ্যের কাছে আহ্বান- গণশত্রু খুনি-ফ্যাসিস্ট ইউনূস গং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে আজ হুমকির মুখে ফেলেছে! মহান মুক্তিযুদ্ধ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু, জাতীয় পতাকা, জাতীয় সংগীত আজ আঘাতপ্রাপ্ত! খুন, ধর্ষণ, ডাকাতি, লুটতরাজ, ছিনতাই, রাহাজানি সর্বত্র। গোটা দেশটায় যেন রক্তাক্ত প্রান্তর। খুনি-ফ্যাসিস্ট ইউনূসের হাত থেকে দেশ বাঁচাতে, মানুষ বাঁচাতে, আগামী প্রজন্মের জন্য ভবিষ্যৎ গড়তে- জেগে ওঠো যুব-তারুণ্য। তারুণ্য জাগলেই, জেগে ওঠে বাংলাদেশ।
আসুন, দেশের এই ভয়াবহ ক্রান্তিলগ্নে-
দেশ বাঁচাতে, মানুষ বাঁচাতে স্বাধীনতার সপক্ষের সকল গণতান্ত্রিক-প্রগতিশীল-অসাম্প্রদায়িক শক্তি ঐক্যবদ্ধ হই ; গণশত্রু, মবসন্ত্রাসের হোতা, খুনি-ফ্যাসিস্ট ইউনূসকে হটাতে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তুলি এবং গণশত্রু, খুনি-ফ্যাসিস্ট ইউনূস গংদের অবসান ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা পুনর্নিমাণ করি।
মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ সমুন্নত রেখে বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে- লাল-সবুজের পতাকা ঊর্ধ্বে তুলে ধরে, জয় বাংলা স্লোগানের উজ্জীবনী শক্তিতে অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক-প্রগতিশীল মানুষ তথা মহান মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের সবার ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধেই রক্ষা পাবে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি। আবারও শুরু হবে স্বদেশ বিনির্মাণের সংগ্রাম।
বাংলা ও বাঙালির বিজয় অবশ্যম্ভাবী। বিজয় আসবেই…
জয় বাংলা
জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।