প্রথম বাংলা : শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী সাব রেজিস্ট্রার অফিসে সেবা প্রত্যাশীদের ভীড় থাকে প্রতিদিন। কিন্তু সাব-রেজিস্ট্রার উপস্থিত না থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হয় শত শত সেবা প্রত্যাশী। সেই সঙ্গে তার এই কর্মকান্ডে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার সাব রেজিস্টার অফিস করেন তার মনমতো।
এসব নানা অভিযোগে গত জুন মাসে এসব অনিয়ন ও দুর্নীতির প্রতিকার চেয়ে বাংলাদেশ নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন মো: দৌলত হোসেন নামে এক ভুক্তভোগী। লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বেলা এগারোটার আগে কখনই সাব রেজিস্ট্রারকে অফিসে পাওয়া যায় না।
কখনো আবার বেলা সাড়ে ১২ টায় অফিসে গিয়েও তাঁর দেখা মিলে না। অন্যদিকে, বহিষ্কার হওয়া অফিসের এক নকল নবিশকে অবৈধভাবে অফিস করাসহ অফিসের সকল কাজে অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
এমনই নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার কর্মকর্তা শারমীন আক্তার ও বহিষ্কৃত নকল নবীশ জাহাঙ্গীর আলম জনির বিরুদ্ধে।
সাব রেজিষ্টার কার্যালয়ে প্রতিটি সাব-কবলা দলিলের জন্য সরকারি রেজিষ্ট্রেশন ফি-৩৬০ টাকা এবং হেবা ঘোষণা দলিলের
ফি-৮০০ টাকা। তবে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলম জনি প্রতিটি সাব-কবলা দলিলের জন্য ২ হাজার ৩০০ টাকা এবং হেবা ঘোষণা দলিলের জন্য ২৯০০ টাকা করে নেন। এছাড়াও সরকারের অবমুক্তকৃত খ তফসিলের ভূমি রেজিষ্ট্রেশনের জন্য ২৫ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকেন। এদিকে, জাহাঙ্গীর আলম জনিকে গত ২০২৩ সালের ৩ জানুয়ারী অফিসের অন্যান্য কর্মচারী ও জেলা রেজিস্টারের কর্মচারীদের সাথে কর্তৃর্তত্বমূলক আচরণ,দৈনিক বালাম বহিতে দলিল নকল না করা ও বিভিন্ন অসদাচরণে লিপ্ত থাকার অভিযোগে সাময়িক ভাবে বহিষ্কার করা হয়। পরে একই বছরের ২৩ মার্চ তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার ও অফিস আঙিণায় তাঁর প্রবেশ স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হয়।
এদিকে সরেজমিনে উপজেলা সাব-রেজিষ্টার কার্যালয়ে গেলে দেখা যায়, সাব-রেজিস্টার কর্মকর্তার কক্ষের দরজা বন্ধ রয়েছে। কর্মকর্তা না আসায় এজলাসের কাজ ও শুরু হয়নি। বাহিরে সেবাগ্রহীতারা অপেক্ষা করছেন।
এসময় বহিষ্কৃত নকল নবীশ জাহাঙ্গীর আলম জনি এজলাসে বসেই ধুমপান করছিলেন। দুপুর ১২ টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত সাব-রেজিষ্টার শারমীন আক্তার অফিসেই আসেননি। দুপুর ১২.২৫ মিনিটেও সাব রেজিস্ট্রার কর্মকর্তা অফিসে না আসার বিষয়ে লিটন নামে অফিসের এক চতুর্থ শ্রেণির কর্মকর্তা বলেন, স্যার হয়তো জ্যামে (যানজটে)আটকে আছেন এমনিতে সকালেই আসেন।
এসময় দলিল করতে আসা লোকমান হোসেন বলেন, সকাল ১০ টা থেকে আইসা বইসা থাকার পর বেলা সাড়ে ১২ টায় সাব রেজিষ্টার অফিসে আসেন। এটা তো এই অফিসের প্রতিদিনের ঘটনা। বাড়তি টাকা না দিলে দলিলও হয় না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নালিতাবাড়ী সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের এক কর্মচারী বলেন, স্যার (সাব রেজিষ্টার) ১১ টা বা সাড়ে ১১ টার আগে কখনই অফিসে আসেন না। কখনও আবার আরোও পরে আসেন আর বহিষ্কৃত নকল নবীশ জনি তো ইচ্ছামতো সব করে সে পবিত্র এজলাসে বইসাই সিগারেট খায়।
অভিযোগ অস্বীকার করে জাহাঙ্গীর আলম জনি বলেন,আমাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছিলো।পরে আমি জবাব দেও য়ায় আমায় আবার অফিস করতে বলা হয়েছে। আমায় স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়নি। বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ নি।
এবিষয়ে জেলা রেজিস্টার আনিছুর রহমান বলেন, বলেন, এসব বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।