December 7, 2025, 2:41 am
শিরোনামঃ
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের”স্বাস্থ্য খাতে ১৫ কোটি টাকা লুটপাট লালমাইয়ে মরিয়মের অবুঝ ২ সন্তানসহ জোরপূর্বক তালা দিয়ে ঘর ছাড়া করলেন শশুর ও ভাসুর গ্রামীণ ব্যাংক ভবনের ১১ হাজার বর্গফুট জায়গা মাত্র ৮৩ টাকা মাসিক ভাড়ায় ব্যবহারের অভিযোগ ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে ‘ধানমন্ডি ৩২ ভাঙার পাপে তারেক রহমান আমৃত্যু অনিরাপদ, এসএসএফ তাকে জনবিচ্ছিন্ন করবে’: সাংবাদিক ফজলুল বারী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের চাপ ভারত থেকে শেখ হাসিনা–কামালকে ফেরত আনা অসম্ভব—৬০০ কোটি টাকার গোপন চুক্তি ব্যর্থ শেখ হাসিনার নৈতিক অবস্থানকে সম্মান: ‘আস্থাহীন’ ট্রাইব্যুনালে লড়বেন না জেড আই খান পান্না বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে ভয় পায় বলেই ক্যাঙ্গারু কোর্টে রায়: জয় কুড়িগ্রামে নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বিকে অভিনন্দনঃ টাঙ্গাইলে জেলহাজতে আ.লীগ নেতার মৃত্যু: বিনা চিকিৎসায় ‘পরিকল্পিত হত্যা’র অভিযোগ
নোটিশঃ
আপনার আশেপাশের ঘটে যাওয়া খবর এবং আপনার ব্যবসার বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য যোগাযোগ করুন মানবাধিকার খবরে।

সাংবাদিক তুহিন হত্যার প্রতিবাদে কেন্দুয়ায় মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

Reporter Name

লাভলী আক্তার-নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধ:

গত ৭ আগস্ট গাজীপুরে দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ-এর স্টাফ রিপোর্টার সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবিতে নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) দুপুর ২টায় উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের আয়োজনে উপজেলার সকল সাংবাদিক সংগঠন ও সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সেকুল ইসলাম খান ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই সেলিমসহ অন্যান্য সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমদাদুল হক তালুকদারের কাছে স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন— কেন্দুয়া রিপোর্টার্স ক্লাবের সহ-সভাপতি আবুল কাশেম আকন্দ (ভোরের ডাক),কেন্দুয়ামিডিয়া ক্লাবের সভাপতি সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা (সমকাল),কেন্দুয়াজাতীয়তা বাদী সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি সালাহউদ্দিন সালাম (দিন কাল) ও সাধারণ সম্পাদক কাউসার তালুকদার (ভোরের দর্পণ ও প্রতিদিনের কাগজ)সিনিয়র সহ সভাপতি লুৎফুর রহমান হৃদয় (বিবিসি নিউজ ২৪)”সিনিয়র সাংবাদিক হারেছ উদ্দিন ফকির (আজকের খবর),রফিকুল ইসলাম (যায়যায়দিন), সাংবাদিক রাখাল বিশ্বাস(আমাদের সময়),বীর মুক্তিযোদ্ধা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের দায়িত্ব প্রাপ্ত কমান্ডার নূরুল হক, ডেপুটি কমান্ডার আব্দুল কুদ্দুছ লালচাঁন এবং মুক্তিযোদ্ধা সন্তান শুভ্র প্রমুখ।

এছাড়া মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন— মো. লূৎফুর রহমান ভুইঁয়া (ভোরের পাতা),মো. কামাল হোসেন (আজকের পত্রিকা ),মো. রুকন উদ্দিন (মানবকণ্ঠ), মো. মতিউর রহমান (সদস্য, কেন্দুয়া প্রেসক্লাব),মাঈন উদ্দিন সরকার রয়েল (দি বাংলাদেশ টুডে),শাহ্ আলী তৌফিক রিপন (আলোকিত বাংলাদেশ), দিল বাহার খান (সাংস্কৃতিক সম্পাদক,কেন্দুয়া প্রেসক্লাব),মজিবুর রহমান (মানবজমিন),কোহিনূর আলম (বাংলাদেশ সমাচার), কেন্দুয়া মিডিয়া ক্লাবের সাংবাদিক মঞ্জুরা আক্তার লিলি,

মাজারুল ইসলাম উজ্জ্বল’কিশোর কুমার শর্মা (দপ্তর সম্পাদক, কেন্দুয়া প্রেসক্লাব),মো. হুমায়ুন কবির (দৈনিক সংবাদ), মনিরুল ইসলাম আকন্দ সোহেল (কেন্দুয়া প্রতিদিন), শাকিব আহমেদ (আজকের আলোকিত সকাল), সালমান আহম্মেদ (দেশবাংলা প্রতিদিন) ও লাভলী আক্তার জেলা প্রতিনিধি দৈনিক মুক্তিযুদ্ধ ৭১ সংবাদ।

কর্মসূচিতে অর্ধশতাধিক সাংবাদিক অংশ নেন”বক্তারা বলেন, সাংবাদিক তুহিন হত্যার ঘটনায় দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

এ সময় লাভলী আক্তার বলেন” তুহিনের দুই এতিম সন্তানের পাশে এসপি কাজী আখতার উল আলম”সন্ত্রাসীদের হাতে নির্মমভাবে নিহত সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনের দুই অবুঝ শিশু তৌকির ও ফাহিম ভবিষ্যতের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন ময়মনসিংহ জেলার এসপি কাজী আখতার উল আলম।রোববার দুপুরে তুহিনের গ্রামের বাড়ি ফুলবাড়িয়ার ভাটিপাড়ায় নিজে গিয়ে শুধু সমবেদনা জানাননি, তুহিনের পরিবারের খোঁজখবরও নিয়েছেন।

জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)’র অফিসার ইনচার্জ মহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “স্যার (এসপি আখতার) নিজ উদ্যোগে প্রয়াত সাংবাদিক তুহিনের পরিবারের খোঁজ-খবর নিয়েছেন এবং ময়মনসিংহ পুলিশ প্রশাসন পাশে দাড়াবেন বলে জানিয়েছেন ।”

তুহিনের স্ত্রী মুক্তা বেগম বলেন, “ফাহিম এখনো জিজ্ঞেস করে, ‘মা, বাবা কি অফিসে গেছে?’ আমার বুক কাঁপে… আমি চাই, ওরা যেন কোনোদিন বাবার অভাব বুঝতে না পারে। কেউ যদি বাবার জায়গা না নিতে পারে, একজন অভিভাবকের ছায়া তো থাকুক। স্যার সেই ছায়া হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তিনি এসেছেন আমার শশুরবাড়ি ফুলবাড়িয়ার ভাটিপাড়ার গ্রামে। সান্তনা দিয়েছেন পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

তুহিনের অবুঝ শিশুদের চোখ দুটো জানালার দিকে চেয়ে থাকে।দরজা খুললেই দৌড়ে যায় কেউ একজন, মনে হয় বাবা বুঝি ফিরে এসেছেন। তবে নির্মম সত্য হলো, সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন আর কোনোদিন ফিরবেন না।

তুহিন হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের নয়, গোটা সাংবাদিক সমাজের হৃদয়ে শোকের ছায়া ফেলেছে। কিন্তু সেই শোকের অন্ধকারে আশার আলো হয়ে এসেছেন ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) কাজী আখতার উল আলম।

এই ছোট্ট শিশু দুটি বুঝে উঠতে না পারলেও, হয়তো তাদের মন বুঝতে পারছে—তাদের পাশে একজন আছেন।তিনি এসপি কাজী আখতার উল আলম, যিনি শুধুই একজন পুলিশ কর্মকর্তা নন, একজন অভিভাবক, একজন রাষ্ট্রের বিবেক।

প্রসঙ্গত গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গাজীপুর মহানগরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় সাংবাদিক তুহিন হানিট্র্যাপে আটকে পড়া এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে জখম করার ভিডিও ধারণ করছিলেন। এ দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করায় তাকেও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে সংঘবদ্ধ এক চক্র। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

এখন পর্যন্ত সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে ৮ জনকে শনাক্ত করে ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মূল পরিকল্পনাকারী গোলাপি বর্তমানে কারাগারে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার নাজমুল করিম খান জানান, “১৫ দিনের মধ্যে চার্জশিট দেওয়া হবে।”

তুহিনের হত্যাকাণ্ডের বিচার যেমন জরুরি, তেমনি জরুরি তার সন্তানদের জীবন বাঁচানো। এই অবস্থায় এসপি আখতারের ভূমিকা জনমনে গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জাগিয়েছে। রাষ্ট্রের বিবেক হয়ে দাঁড়িয়েছেন তিনি।

সাংবাদিক সমাজ,মানবাধিকার কর্মীসহ সাধারণ মানুষসামাজিক মাধ্যমে প্রশংসা জানিয়ে বলেছেন“এসপি আখতার শুধুএকজন কর্মকর্তা নন,তিনি একজন মানবিক মানুষ তিনি শহীদ সাংবাদি কের সন্তানদের আশ্রয় হয়েছেন। তিনি একটি শিশুর চোখের জল মুছে দিয়েছেনএমন মানবিকতা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ুক।



Our Like Page
Developed by: BD IT HOST