মোঃ শফিকুল ইসলাম কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃকুড়িগ্রামের উলিপুরে টাকার বিনিময়ে সুবিধাভোগিদের নামের তালিকা করা নিয়ে জটিল তায় এবারও ফেরত যাচ্ছে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসুচি (ইজিপিপি) প্রকল্পের প্রায় সোয়া ১৬ কোটি টাকা। প্রকল্পের নীতিমালা লংঘন করে পুরোনো তালিকাভূক্ত সুবিধাভোগিদের বাদ দিয়ে ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে নতুনদের অর্ন্তভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে ইউপি চেয়ারম্যান মেম্বার দের বিরুদ্ধে।
নীতিমালার সাথে সাংঘর্ষিক এ তালিকা নিয়ে চেয়ার ম্যান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে জটিলতায় প্রকল্পে র মেয়াদ শেষ হলেও তালিকা অনুমোদন হয়নি। ফলে ওই প্রকল্পের সুবিধাভোগি ৫ হাজার ৭১ জন অতিদরিদ্র মানুষ তাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশংকায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।উল্লেখ্য, গত বছরও ভাগাভাগির দ্বন্দে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান (ইজিপিপি) পাইলট প্রকল্পের সোয়া ১৬ কোটি টাকা ফেরত গেছে।
উপজেলা প্রকল্প অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে উপ জেলার অতিদরিদ্রদের জন কর্মসংস্থান কর্মসুচীর (ইজিপিপি) কাজ এক যোগে শুরু করার জন্য নন-ওয়েজ খাতে বরাদ্দ প্রদান করেন। প্রথম ও ২য় পর্যায়ে ৫ হাজার ৭১ জনের জন্য ১৬ কোটি ২২ লাখ ৭২ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।
কর্মসুচি বাস্তবায়নের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধি দপ্তর গত ১৩ নভেম্বর/২২ চিঠি দিয়ে নীতিমালা অনুযায়ী পুরাতন সুবিধাভোগিদের বহাল রেখে যারা মৃত্যু,বয়স্ক,অক্ষম ও স্থান্তরিত হয়েছে তাদের নাম বাদ দিয়ে ওই পরিবার থেকে প্রতিস্থাপন করে তালি কা পাঠানো ও ২৬ নভেম্বর/২২ থেকে কর্মসুচির কাজ শুরু করার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশ মোতা বেক প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস প্রকল্পর নির্দেশিকা অনুযায়ী গত বছরের সুবিধাভোগিদের নাম ঠিক রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তালিকা চেয়ে চেয়ার ম্যানদের চিঠি দেন।
কিন্ত চেয়ারম্যানরা প্রকল্পের নীতিমালা লংঘন করে গত বছরের সুবিধাভোগিদের অর্ধেক নাম বাদ দিয়ে নতুন সুবিধাভোগির নাম অর্ন্তভুক্ত করে নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়ার পর তালিকা জমা দেন। ফলে ওই তালিকা নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও চেয়ারম্যা নদের মধ্যে জটিলতা শুরু হয়। চেয়ারম্যা নদের দেয়া তালিকা প্রকল্প নীতিমালার সাথে সাংঘষিক হওয়ায় উপজেলা পরিষদ তা অনুমোদর করেনি।
গত ২২ ডিসেম্বর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওই তালিকা জেলা প্রশাসক বরারবর প্রেরণ করে মতামত ও সিদ্ধান্ত চান। জেলা প্রশাসক গত ২২ জানুয়ারী ইউপি চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাথে এ নিয়ে বৈঠক করে তালিকা সংশোধন করার নির্দেশ দেন। তালিকা সংশোধন না হতেই গত ২৫ জানুয়ারী প্রকল্পের প্রথম ফেজের কাজের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। ফলে টাকা ফেরত যাওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।
সাহেবের আলগা ইউনিয়নের গোলামের চরের বানিন্দা খৈইমুদ্দিনের স্ত্রী মর্জিনা বেগম ও আবু বক্করের স্ত্রী বিলকিছ বেগম আগে থেকে ওই প্রকল্পে কাজ করছেন। তাদের কাছে পূনরায় প্রতিনিধিগণ টাকা দাবী করে টাকা দিতে না পারার কারণে হালনাগাদ তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দিয়ে নতুন নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। অনিয়মের কারণে ইজিপিপি প্রকল্পের বরাদ্দকৃত টাকা ফেরত চলে যাওয়ায় প্রকৃত সুবিধাভোগীরা দিশেহারা হয়ে পড়েন।