ইকরামুল হক বিশেষ প্রতিনিধি
কক্সবাজারের চকরিয়ায় সুসম্পর্কের সুযোগ নিয়ে ব্যবসায়ি ক বিশ্বাসভঙ্গ,বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ অভিযোগে দা য়ের করা মামলার আসামি শাহারিয়ার রোস্তম মানিক (৩৫ )কে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (চকরিয়া আদালত) আসামি মানিকের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করলে তাঁকে কারাগারে প্রেরণের এই আদেশ দেন।
বৃহস্পতিবার ৬ জুলাই বিকালে মামলার বাদীপক্ষের আইন জীবী চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের এডভোকেট মঈন উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে ছেন।অভিযুক্ত শাহারিয়ার রোস্তম মানিক চকরিয়া পৌরস ভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাস্টার পাড়া (কাহারিয়া ঘোনা) এলাকার মৃত নূর মোহাম্মদ বাবুর ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চকরিয়া উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম চর পাড়ার প্রবাসী মোঃ সাদ্দাম হোসেনের সাথে আসামি মানিকের দী র্ঘদিন ধরে সুসম্পর্ক ছিল। বিশ্বাসের ভিত্তিতে জমি ক্রয়ের প্রস্তাব দিলে সাদ্দাম প্রথমে মানিককে ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেন। মানিক জমি ক্রয় করে দলিল হস্তান্তরের মাধ্যমে সাদ্দামের আস্থা অর্জন করেন।
পরবর্তীতে জমি কেনাবেচার ব্যবসায় শেয়ার নেওয়ার প্রলোভন দেখালে, সাদ্দাম হোসেন ২০২৪ সালের ৪ মার্চ থেকে কয়েক কিস্তিতে আরও সর্বমোট ৪৮ লাখ টাকা মানিককে প্রদান করেন। উক্ত টাকা দিয়ে আসামি জমি ও গাড়ির ব্যবসা পরিচালনা করে বিপুল অর্থ লাভ করেন।
এছাড়া প্রবাসী সাদ্দাম বিদেশে থাকা অবস্থায় ব্যবাসায়িক কাজের সুবিধার্থে নিজের ২ লাখ ৭৩ হাজার টাকা মূল্যের একটি ‘এফজেড ভার্সন-৩ (১৫০ সিসি)’ মোটরসাইকেল মানিককে ব্যবহারের জন্য দেন।
পরবর্তীতে সাদ্দাম হোসেন তাঁর পাওনা টাকা ফেরত চাইলে আসামি মানিক সাদ্দামের পিতাকে ৩ লাখ, স্ত্রীকে ২ লাখ এবং কর্মচারীর বেতন বাবদ ৩ লাখ টাকা প্রদান করেছেন বলে জানান। সেই হিসেবে মোটরসাইকেলের দামসহ আসামির কাছে সাদ্দামের মোট ৪২ লাখ ৭৩ হাজার টাকা পাওনা থাকে। কিন্তু মানিক প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ভয়েস রেকর্ডের মাধ্যমে মাত্র ২৩ লাখ টাকা পাওয়ার কথা স্বীকার করে বাকি টাকা পুরোপুরি অস্বীকার করেন।
সর্বশেষ গত ২৭ জুন চকরিয়া পৌরসভার থানা স্টেশন এলাকায় সাদ্দাম পাওনা টাকা ফেরত চাইলে মানিক টাকা দেওয়ার কথা সরাসরি অস্বীকার করেন। টাকা ফেরতের চাপ দিলে সাদ্দামকে মারধর, খুন-জখম এবং জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
মামলার বাদী ভুক্তভোগী সাদ্দাম হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,মানিকের সাথে আমার পারিবারিক ও ভাইদের মতো সম্পর্ক ছিল।সেই অন্ধ বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েআমার জীবনের সমস্ত কষ্টার্জিত প্রবাস জীবনের আয় আত্মসাৎ করেছে। আমি যখন আমার পাওনা ৪২ লাখ ৭৩ হাজার টাকা ও মোটরসাইকেল ফেরত চাই, তখন সে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।
স্থানীয়ভাবে সালিশ করে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে বাধ্য হয়ে আইনি আশ্রয় নিয়েছি। আমি আদালতের কাছে ন্যায্য বিচার ও আমার পাওনা টাকা উদ্ধারের জন্য থানায় মামলা দায়ের করি। আজ অভিযুক্ত মানিক জামিন আবেদন নিয়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আরিফুর রহমান জানান, অর্থ আত্মসাতের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে থানা পুলিশ মামলাটি দণ্ডবিধির পৃথক ধারায় এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে। এরপর অভিযুক্ত আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে বিজ্ঞ বিচারক জামিন নাম ঞ্জুর করে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি।