সেলিম মিয়া : দেশের সরকারি খাদ্যগুদামগুলোতে মজুত খাদ্যশস্য নিয়ে কোনো ধরনের নয়ছয়, অনিয়ম, দুর্নীতি বা গরমিল বরদাশত করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা কোনো সিন্ডিকেট থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্ট ও গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খাদ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মানিকগঞ্জের ঘিওর সরকারি খাদ্যগুদামে হিসাবের তুলনায় ১০০ টন চাল ও ২০ টন গমের হদিস না পাওয়ার ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ঘটনাটিকে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে না। দেশের অন্য খাদ্যগুদামগুলোতেও একই ধরনের অনিয়ম রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। অনিয়ম যারই হোক, তাঁর পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা করা হবে না।
মন্ত্রী বলেন, সরকারি খাদ্যগুদামে মজুতের হিসাবে গরমিল, খাদ্যশস্য আত্মসাৎ, সংরক্ষণে অনিয়ম কিংবা অন্য কোনো দুর্নীতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের ছাড় দেওয়া হবে না। দেশের ৬৪ জেলার সরকারি খাদ্যগুদাম পর্যায়ক্রমে অনুসন্ধানের আওতায় আনা হবে। কোনো গুদামে অসঙ্গতি ধরা পড়লে সেটিকে ছোটখাটো ভুল বলে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে না।
তিনি বলেন, ‘জনগণের খাদ্য নিয়ে কোনো ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না। খাদ্যগুদামকে কেন্দ্র করে কোনো সিন্ডিকেট আমরা বরদাশত করব না। সরকারি গুদামে জনগণের খাদ্য নিরাপদ থাকবে, সঠিক হিসাব থাকবে এবং দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের জবাবদিহির মধ্যে থাকতে হবে।’
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে তাঁর নিজ জেলা মানিকগঞ্জ থেকেই সরকারি খাদ্যগুদামে অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব সরকারি খাদ্যগুদামের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্তের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খাদ্যশস্যের মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ করতে ভবিষ্যতে নজরদারি জোরদার করা হবে।
তিনি বলেন, খাদ্যগুদাম জনগণের জন্য, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়। জনগণের খাদ্য নিয়ে দুর্নীতি করলে কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না।
খাদ্যমন্ত্রী আরও বলেন, খাদ্য মন্ত্রণালয়কে শতভাগ জনবান্ধব ও সেবামুখী হিসেবে গড়ে তুলতে একগুচ্ছ পরিকল্পনা রয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দায়িত্বে অবহেলা কিংবা দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবার জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি থাকবে।
তিনি জানান, সাময়িক অভিযান নয়, স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে দেশের খাদ্য পরীক্ষাগার ও ল্যাবরেটরিগুলোর আধুনিকায়ন করা হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে।
সম্প্রতি ঘিওর সরকারি খাদ্যগুদামে মজুত যাচাই করতে গিয়ে বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্যের হিসাবের গরমিল ধরা পড়ে। খাদ্য অধিদপ্তরের বিশেষ অডিটে দেখা যায়, গুদামের হিসাবের তুলনায় ১০০ টন চাল ও ২০ টন গমের হদিস নেই। অন্যদিকে হিসাবের চেয়ে ৪১ টন ধান বেশি পাওয়া গেছে। পাশাপাশি হিসাবের বাইরে পাওয়া গেছে ৬ হাজার ৫০০টি খালি বস্তা।
এ ঘটনায় ঘিওর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারহানা আক্তার ও খাদ্য পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) শ্রী বিপুল কুমারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে খাদ্য অধিদপ্তর। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।