প্রথম বাংলা : রাজশাহীর তানোরে সরকারি খাদ্য গুদামে ধান কেনায় কারসাজি ও ছাঁটাইয়ে ভয়াবহ অনিয়মদুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। চেস্টা চলছে,বন্ধ মিলে বরাদ্দের নেপ থ্যে রয়েছে শফিউর রহমান কারিগরি পরিদর্শক ও অডিট র মশিউর রহমান বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সুত্র বলছে, রাজনৈতিক পরিচয়ের চাতাল মালিক জনৈক সেলিমের নেতৃত্বাধীন আলোচিত এবং পুরানো সিন্ডিকেট তানোর ও কামারগাঁ সরকারি খাদ্য গুদামে এখনো বহাল তবিয়তে অনিয়ম-দুর্নীতি করছে।চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় মোট এক হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন ধান বরাদ্দ আসে। এর মধ্যে তানোর সদর খাদ্য গুদামে এক হাজার ৯৫ মেট্রিক টন ও কামারগাঁ খাদ্য গুদামে ৫৫৫ মেট্রিক টন বরাদ্দ দেয়া হয়।কামারগাঁ খাদ্য গুদামে বরাদ্দকৃত ৫৫৫ মেট্রিক টন ধানের মধ্যে ৩৬০ মেট্রিক টন ধান কৃষকদের নিকট হতে সংগ্রহ করা হয়।
এদিকে কামারগাঁ খাদ্য গুদামে জায়গা সল্পতার কারনে ৩৬০ মেট্রিক টন ধান ছাঁটাই করার জন্য জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের (ডিসি ফুড) দপ্তরে তথ্য প্রেরণ করা হয়।কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতার কারণে ধান ছাঁটাই বিলম্ব হয়। এমতাবস্থায় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (টিসিএফ) পারভীন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করে কামারগাঁ খাদ্য গুদামের প্রায় দুশ’ মেট্রিক টন ধান তানোর সদর খাদ্য গুদামে কেনার নির্দেশনা দেন।
অন্যদিকে তানোর খাদ্য গুদামের (ওসিএলএসডি) আফরোজা এই সুযোগ গ্রহণ করে এবং কামারগাঁ গুদামের ২০০ মেট্রিক টন ও তানোর গুদামের প্রায় ৬০০ মেট্রিক টন মোট ৮০০ মেট্রিকটন ধান তার পচ্ছন্দের একটি অটো চালকল-এর নামে ধান ছাঁটাই বরাদ্দ নিয়ে আসে এবং তানোর খাদ্য গুদাম সিন্ডিকেটের সঙ্গে ব্যবসায়িক আঁতাত করে,বরাদ্দকৃত ধান ওই অটো চালকল মিলে তানোর খাদ্য গুদাম হতে ধান সরবরাহ না দিয়ে বিভিন্ন ভূয়া কৃষকের নামে কৃষকের ধান সরবরাহ দেখিয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধানের বিল প্রদান করেছে।
উক্ত অনলাইনে ধানের বিল প্রদান ও অটো চালকল মিল এর নামে বরাদ্দকৃত ধানের চাল বাজার হতে নিম্নমানের চাল ক্রয় করে (ওসিএলএসডি) আফরোজা বেগম, এএসআই মামুন, নিরাপত্তা প্রহরী লতিফুর রহমান এবং তানোর গুদামের চালকল ব্যবসায়ি অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ওই অটোমিল চালকল এর নামে জেলা অফিস হতে বরাদ্দের পর যে সকল কৃষকের নামে তানোর খাদ্য গুদামে ধানের বিল হয়েছে তা সরেজমিনে তদন্ত করলে অনিয়মের প্রমান মিলবে।
কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলা হলে তারা বলেন, তারা কোনো ধান গুদামে দেননি! এমনকি তাদের নামে যে কৃষি ব্যাংকে হিসাব খোলা হয়েছে সেটাও তারা জানেন না।
এদিকে একটি নির্ভরযোগ্য সুত্র জানায়, তানোর খাদ্য গুদামের (ওসিএলএসডি) আফরোজাকে এই কাজে সহযোগিতা করেছেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দপ্তরের কর্মরত কারিগরি খাদ্য পরিদর্শক শফিউর রহমান ও অডিটর মশিউর রহমান। বিধি মোতাবেক খাদ্য গুদামে ধান ছাঁটাই আদেশ হওয়ার পর ঠিকঠাক গুদাম হতে ধান বের হচ্ছে কি না তা সরেজমিনে তাদের দেখার কথা।
কিন্ত শফিউর রহমান কারিগরি পরিদর্শক প্রতিটন ১০০ টাকা ও মশিউর রহমান অডিটর তিনি প্রতিটন ৫০ টাকা করে আর্থিক সুবিধা নিয়ে গুদামে না এসে রাজশাহী (ডিসি ফুড) অফিস থেকেই সব নিয়ন্ত্রণ করছেন। এছাড়াও তানোরের বন্ধ চালকালে (মিল)ছাঁটাইয়ের জন্য ধান বরাদ্দের পাঁয়তারা করা হচ্ছে।তানোরে আওয়ামী মতাদর্শী জনৈক সেলিম হাজি এসব নিয়ন্ত্রণ করছেন।
এদিকে এলাকার কৃষকগণ এবিষয়ে সরেজমিন তদন্ত পুর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সাংসদ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।একইসঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদুক) ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।এবিষয়ে জানতে চাইলে শফিউর রহমান ও মশিউর রহমান উভয়েই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,নিয়মানুযায়ী সব বরাদ্দ বিভাজন করা হয়েছে।
এবিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেস্টা করা হলেও রাজশাহী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের (ডিসি ফুড) এর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ছবি : সংগৃহীত