প্রথম বাংলা : রাজধানীর শাহজাহানপুরে গলা কেটে মোহাম্মদ ফকরুল হাসান ফরহাদ (৪৪) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বোন ও ভগ্নিপতিকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) শাহজাহানপুর থানা পুলিশ।
শাহজাহানপুর থানা সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৩০ মিনিট থেকে রাত ৯টা ৩০ মিনিটের মধ্যে উত্তর শাহজাহানপুরের একটি বাসায় ফকরুল হাসান ফরহাদকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। রাত আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটে নিহতের স্ত্রী বাসায় ফিরে তার মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আইনগত কার্যক্রম শুরু করে। পরে সিআইডির সহায়তায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়।
ঘটনার পর শাহজাহানপুর থানা পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করে। সিসিটিভি ফুটেজে লাল রঙের হেলমেট পরিহিত একজন সন্দেহভাজনকে ঘটনাস্থলসংলগ্ন এলাকায় চলাচল করতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকার তোপখানা রোডের একটি অফিস থেকে নিহতের ভগ্নিপতি আব্দুস সামাদ সুজন (৫৮)-কে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে একটি লাল রঙের হেলমেট, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাপাতি ও ঘটনার সময় পরিহিত পোশাক উদ্ধার করা হয়। পোশাকটি ধোয়া অবস্থায় পাওয়া যায়।
এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে রক্তের নমুনা, হাতের নখের সোয়াব, মোবাইল ফোন, সিগারেটের বাটসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব আলামত প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক ও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহতের বড় বোন নুর আফসানা নিপা (৪৫) ও ভগ্নিপতি আব্দুস সামাদ সুজন (৫৮)-কে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালত তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, বাসাটির দখল, বসবাস, গ্যাস-পানির বিল পরিশোধসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নিহতের সঙ্গে তার বোন ও ভগ্নিপতির বিরোধ ছিল। এছাড়া পারিবারিক সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টিও তদন্তে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এসব বিরোধকে হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, পরিকল্পনা ও প্রত্যেক আসামির সুনির্দিষ্ট ভূমিকা এখনো তদন্তাধীন। ফরেনসিক পরীক্ষা ও অন্যান্য সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় শাহজাহানপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।