স্টাফ রিপোর্টার, কুড়িগ্রাম।
ভূ-পৃষ্ঠস্থ পানির নিরাপদ ব্যাবহার,কৃষি উন্নয়ন ও জলাবদ্ধ তা নিরসন কল্পে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রকল্প হিসেবে নদী কেন্দ্রীক সংযোগ স্থাপনকারী বিভিন্ন শাখা ও উপশাখা গুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওয়াতা ধীন ৬৪ জেলার অভ্যন্তরস্থ ছোট নদী,খাল ও জলাশয় পুনঃখনন প্রকল্প কাজের অংশ হিসেবে কুড়িগ্রাম জেলাধী ন উলিপুর উপজেলায় বামনি খাল পুনঃখননের কাজ শুরু হয়। উক্ত খালটির খনন কাজ উপজেলার ধরণীবাড়ী ইউনিয়নে চলমান থাকা অবস্থায় ঐ স্থানে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এরশাদুল হক (এরশাদ মেলেটারী) উপস্থিত হয়ে স্কেভেটর (ভেকু) দিয়ে মাটি খননের কাজ বন্ধ করে দেন এবং ভেকুর চাবী কেড়ে নিয়ে তিন দিন পর্যন্ত আটকে রাখেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়,আগামী বর্ষা মৌসুম আসার আগে খালটির খনন কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দ্রুত কাজ শেষ করার উদ্যোগ গ্রহণ করলেও এরশাদ চেয়ারম্যান সেখানে গিয়ে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৩% (তিন শতাংশ) টাকা চাদা হিসেবে দাবী করেন এবং ঠিকাদারকে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে চলমান কাজটি বন্ধ করার পায়তারা করছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রুপার খামার গ্রামের মৃত হাসমত উল্যাহর ছেলে কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের উপকারের জন্য সরকার খাল খনন করে দিচ্ছে আর এরশাদ চেয়ারম্যান এসে কাজ বন্ধ করে দিচ্ছে।
তিনি আরো বলেন,শুকনা মৌসুমে আমরা পানির অভাবে আবাদ করতে পারিনা, আবার বর্ষা কালে এতো বেশি পানি হয় সেই পানি নেমে যাওয়ার রাস্তা না থাকায় আমরা সঠিক সময় ফসল রোপন করতেও পারিনা।সরকার আমাদের উপকারের জন্য এই খালটি খনন করে দিচ্ছে,এতে আমরা অনেক খুশি।ভূমি অধিগ্রহণের টাকা পেয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন,যার যতটুকু জমি সে অনুযায়ী আমরা সবাই আমাদের টাকা সঠিক ভাবে বুঝিয়া পেয়েছি। ধরণীবাড়ী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড মেম্বার ও প্যানেল চেয়ারম্যান হযরত আলী বিপ্লব ওয়াসী বলেন,এই খালটি খনন হলে খালের দুই পার্শ্বে বসবাসকারী দারিদ্র্য পিরীত মানুষ গুলো কৃষি ভিত্তিক বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করে অনায়সে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে।এ কারনে এই খালটি খনন হওয়ায় এলাকার মানুষ অনেক খুশি হয়েছে এবং খাল খনন কাজে তারা সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে। কিন্তু কোন প্রকার কারন ছাড়া আমাদের ইউপি চেয়ারম্যান এরশাদুল হক ঘটনাস্থলে এসে ঠিকাদারের লোকজনকে হুমকি প্রদর্শন করে কাজ বন্ধ করে দেয়। এতে এলাকাবা সী ক্ষিপ্ত হয়ে চেয়ারম্যানের সঙ্গে বাকবিতন্ডায় লিপ্ত হয়, আমি এলাকাবাসীর পক্ষ নিয়ে চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বল্লে তিনি আমাকেও দেখে নেওয়ার হুমকি প্রদর্শন করেন।
এ ব্যাপারে কথা হলে,কুড়িগ্রাম জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,ঘটনাটি আমার জানা নেই তবে,কাজের ভালোমন্দ দেখার অধিকা র সবার আছে।কিন্তু কাজ বন্ধ করা কিংবা কাজে বাধা দেওয়ার এখতিয়ার কারো নেই। যদি কাজ সংক্রান্ত কারো কোন অভিযোগ থাকে তাহলে সেটা আমাকে জানালে বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখবো।