September 13, 2026, 1:57 pm
শিরোনামঃ
ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৬২৯, মামলা ৫ পচা মাংস বিক্রির অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন, গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ – ছাত্রলীগের মিছিল, গ্রেফতার ২৪ নেতাকর্মীর ১০ দিনের রিমান্ড আওয়ামী দাপটে প্রতারনা নিয়োগপরিক্ষায় আয়ারচাকু্রী পেল মাদ্রাসায় সুফিয়া খাতুন র‍্যাব মহাপরিচালককে ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি”র ফুলেল শুভেচ্ছা দুদকে ৪৮ উপসহকারী পরিচালক ও ৩ কোর্ট ইন্সপেক্টর পদে চূড়ান্ত নিয়োগ ডিআরইউ দেশের গণতন্ত্র অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে: রিজভী পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি সমন্বয় জোরদারে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত মন্তব্য কলাম: এভাবে আর কোনো পুলককে গণমাধ্যম অঙ্গন থেকে হারাতে চাই না কৃতি শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই আগামী দিনের বাংলাদেশের নেতৃত্ব তৈরি হবে : ডিএমপি কমিশনার
নোটিশঃ
আপনার আশেপাশের ঘটে যাওয়া খবর এবং আপনার ব্যবসার বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য যোগাযোগ করুন মানবাধিকার খবরে।

জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, নতুনবাজা রে বিএনসিসি ও প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে অংশগ্রহণ

Reporter Name

প্রথম বাংলা : ডেঙ্গু প্রতিরোধ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশব্যাপী একযোগে শুরু হয়েছে “ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬”। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ময়মনসিংহে ব্যাপক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

আজ (১২ সেপ্টেম্বর) শনিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রধান অতিথিত্বে দেশব্যাপী একযোগে “ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬”-এর শুভ উদ্বোধন করা হয়। জেলা প্রশাসন, ময়মনসিংহ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাইফুর রহমানের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন।

পরিচ্ছন্নতা অভিযানে বিএনসিসি, বাংলাদেশ স্কাউটস, গার্লস গাইড, বিভিন্ন এনজিও, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও অংশগ্রহণ করেন। তারা বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করেন এবং জনসাধারণকে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়ে সচেতন করেন।

জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে পরিচালিত এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল ডেঙ্গুর প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি নাগরিকদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। বিশেষ করে বাসাবাড়ি, অফিস-আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের এলাকায় যাতে পানি জমে না থাকে এবং এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণের কর্মসূচি শেষে নতুনবাজার এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। সেখানে বিএনসিসির সহযোগিতায় আয়োজিত পরিচ্ছন্নতা অভিযানে জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান নিজেও অংশগ্রহণ করেন।

এ সময় তিনি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। পাশাপাশি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

একইদিনে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আয়োজনে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ও ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাইফুর রহমান।

মতবিনিময়কালে তিনি বর্তমান বিশ্বে এআই প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব ও সম্ভাবনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান এবং ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতা বিকাশের সুযোগ সম্পর্কেও তিনি আলোচনা করেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ও ইতিবাচক ব্যবহার তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। এআই ও তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে তরুণরা নিজেদের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশ ও সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মতবিনিময় শেষে জেলা প্রশাসক প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে নিয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তরুণদের শুধু প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়নেই নয়, সামাজিক ও নাগরিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান পরিচ্ছন্ন ময়মনসিংহ গড়ে তুলতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থী, তরুণ সমাজ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সাধারণ নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু প্রশাসনের একার দায়িত্ব নয়; এটি একটি সামাজিক ও নাগরিক দায়িত্ব। নিজেদের বাড়িঘর, কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ করতে হবে। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতার মাধ্যমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, পরিচ্ছন্ন নগর ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও ডেঙ্গুমুক্ত ময়মনসিংহ গড়ে তোলা সম্ভব।

দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিএনসিসি, বাংলাদেশ স্কাউটস, গার্লস গাইড, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণার্থী, এনজিও, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সক্রিয় অংশগ্রহণে ময়মনসিংহে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে জনসচেতনতার একটি ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে পড়ে।



Our Like Page
Developed by: BD IT HOST