প্রথম বাংলা : জিএমপি বাসন থানাধীন পালেরপাড়া এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে গৃহবধূ মিম আক্তার (২৮)-কে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার মাত্র ০২ দিনের মধ্যে প্রধান আসামি মোঃ আলম হোসেন (২৯)-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), গাজীপুর জেলা।
গত ২৮/০৭/২০২৬ খ্রিঃ তারিখে জিএমপি বাসন থানাধীন পালেরপাড়া এলাকার আরজু মিয়ার ভাড়া বাসা থেকে মিম আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মোঃ শহীদুল ইসলাম ওরফে রানা বাদী হয়ে মোঃ আলম হোসেন (২৯মোসাঃ জাহানারা বেগম (৪৭)-এর বিরুদ্ধে জিএমপি বাসন থানার মামলা নং-৫১, তারিখ: ২৮/০৭/২০ ২৬ খ্রিঃ, ধারা: ৩০২/৩৪ পেনাল কোড-এ একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি প্রাথমিকভাবে বাসন থানা পুলিশ তদন্ত করলেও এটি পিবিআইয়ের সিডিউলভুক্ত হওয়ায় ৩০/০৭/২০২৬ খ্রিঃ তারিখে পিবিআই গাজীপুর জেলা স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মোঃ রাফিকুল ইসলাম জামান তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তদন্তের শুরু থেকেই পিবিআই গাজী পুর জেলার ক্রাইম সিন টিম ও তদন্ত টিম সমন্বিতভাবে ছায়া তদন্ত পরিচালনা করে।
পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি জনাব মোঃ মোস্তফা কামাল-এর দিকনির্দেশনা এবং পিবিআই গাজীপুর জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার জনাব মোঃ রকিবুল আক্তার-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত অভিযানে ৩০/০৭/২০ ২৬ খ্রিঃ তারিখ ভোর আনুমানিক ০৫:৩০ ঘটিকায় বরিশাল মহানগরের কোতোয়ালী থানাধীন লঞ্চঘাট এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি মোঃ আলম হোসেন (২৯)-কে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ, এজাহার এবং এ পর্যন্ত সংগৃহীত সাক্ষ্য-প্রমাণে জানা যায়, পারিবারিক কলহ, অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং দীর্ঘদিনের দাম্পত্য বিরোধের জের ধরেই এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। তদন্তে আরও জানা যায়, গ্রেফতারকৃত আসামি মাদক ও জুয়ায় আসক্ত ছিলেন। ঘটনার পূর্বে স্ত্রীর সংরক্ষিত অর্থ জুয়ায় হারিয়ে ফেলাকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বিরোধ সৃষ্টি হয়’ পরবর্তী তে এই বিরোধই হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয়।
এ বিষয়ে পিবিআই গাজীপুর জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মোঃ রকিবুল আক্তার বলেন—
হত্যাকাণ্ডের সংবাদ পাওয়ার পরপরই ক্রাইম সিন টিমকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় এবং একই সঙ্গে পৃথক একটি টিম কে ছায়া তদন্তের দায়িত্ব প্রদান করা হয়।পিবিআই প্রধানস হ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় পরিচালিত ধারাবাহিক ও সমন্বিত অভিযানের ফলেই মাত্র দুই দিনের মধ্যে প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।
এ অভিযানে সহায়তার জন্য পিবিআই বরিশাল জেলা, পিবিআই হেডকোয়ার্টার্স, নৌ পুলিশ ঢাকা ও বরিশাল এবং বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”