September 13, 2026, 11:50 am
শিরোনামঃ
ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৬২৯, মামলা ৫ পচা মাংস বিক্রির অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন, গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ – ছাত্রলীগের মিছিল, গ্রেফতার ২৪ নেতাকর্মীর ১০ দিনের রিমান্ড আওয়ামী দাপটে প্রতারনা নিয়োগপরিক্ষায় আয়ারচাকু্রী পেল মাদ্রাসায় সুফিয়া খাতুন র‍্যাব মহাপরিচালককে ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি”র ফুলেল শুভেচ্ছা দুদকে ৪৮ উপসহকারী পরিচালক ও ৩ কোর্ট ইন্সপেক্টর পদে চূড়ান্ত নিয়োগ ডিআরইউ দেশের গণতন্ত্র অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে: রিজভী পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি সমন্বয় জোরদারে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত মন্তব্য কলাম: এভাবে আর কোনো পুলককে গণমাধ্যম অঙ্গন থেকে হারাতে চাই না কৃতি শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই আগামী দিনের বাংলাদেশের নেতৃত্ব তৈরি হবে : ডিএমপি কমিশনার
নোটিশঃ
আপনার আশেপাশের ঘটে যাওয়া খবর এবং আপনার ব্যবসার বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য যোগাযোগ করুন মানবাধিকার খবরে।

মেয়েকে জড়িয়ে মাদরাসা প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানে মবের চেষ্টা

Reporter Name

জেলা প্রতিনিধি গাইবান্ধাঃ-

গাইবান্ধা সদরে দিনের দিশারী মহিলা মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পল্লী চিকিৎসক হাছান আলীর বিরুদ্ধে মেয়েকে জড়িয়ে মিথ্যা অভিযোগ তুলে মাদরাসায় হামলাা চালিয়েছে এক সাবেক ছাত্রীর পরিবার। 

এ ঘটনায় স্থানীয়দের হাতে আটক ওই ছাত্রীর পরিবারকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের পোড়াবাড়ি মোড় নামক স্থানে দিনের দিশারী মহিলা মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের অভিযোগ মেয়েকে দিয়ে বাণিজ্য করতে একের পর এক নাটক সাজাচ্ছে ধুরন্ধর ওই পরিবারটি। কেননা, এরআগে থানায় ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ দিলেও আজ তা পাল্টে মিথ্যা ধর্ষণের অভিযোগ দেয় পরিবারটি।

এছাড়া মেয়েটি এরআগে সব ঘটনা মিথ্যা বলে ভিডিও বক্তব্য দিলেও আজ বক্তব্য পালটিয়ে আজ বলছেন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তাদের প্রশ্ন তাহলে মেয়েটির কোন দাবিটি সঠিক? সেটি প্রমাণিত হওয়ার আগে যেন পুলিশ নিরাপরাধ কোনো মানুষ কিংবা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেন -সেই দাবি তাদের।

মাদরাসা সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আজ সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে বোয়ালী ইউনিয়নের পশ্চিম রাধাকৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত সবুর মিয়ার ছেলে জিবু মিয়া তার স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে ওই দিনের দিশারী মহিলা মাদরাসায় যায় এবং উদ্দোশ্য প্রণোদিত ভাবে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটনার চেষ্টা করে। এসময় তার মেয়েও তাদের সঙে ছিলেন।

পরে স্থানীয়রা তাদের এমন আক্রমণাত্মক আচরণ দেখে মাদরাসা প্রাঙনে আটক করেন। পরে সেখানে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যান উপস্থিত হন। এরমধ্যেই মাদরাসা সংশ্লিষ্টরা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে। পরে জরুরি সেবা নম্বরের ফোন পেয়ে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এসময় তাৎক্ষিণভাবে ঘটনার কোনো সত্যতা না থাকায় ঘটনাস্থলে থেকে ছাত্রীর বাবা-মাসহ সবাইকে থানায় নিয়ে যায় সদর থানা পুলিশ।

মাদরাসা সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, গত ১ মাসের আগে স্থানীয় আসাদুল নামের এক চিকিৎসক ছাত্রীর বাবা তিবু মিয়ার সাথে যোগসাজসে হাছান আলীকে জড়িয়ে ওই ছাত্রীর শরীরে হাত দেওয়ার মিথ্যা একটি গুজব ছড়ায়। পরে সেটির সূত্র ধরে মোটা অংকের টাকা দাবি করে তিবু মিয়া। সেই টাকা দিতে রাজি না হলে কয়েকদিন আগে সদর থানায় এজাহার দেওয়া হয়। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হাছান আলীর ছেলে পল্লী চিকিৎসক নজরুল ইসলাম বলেন, মিথ্যা ঘটনা তৈরি করে তারা (তিবুর পরিবার) মাদরাসায় এসে  মব সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। পরে তাদেরকে আটকে রেখে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ এসে তাদেরকে থানায় নিয়ে যায়।

এসময় তিনি অভিযোগ করেন, মিথ্যা ঘটনা তৈরি করে আমার বাবার কাছে ছাত্রীর বাবা জিবু মিয়া মোস্তা নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে মেয়ের বিয়ের জন্য ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলো। বাবা টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় কয়েকদিন আগে থানায় ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ করা হয়। আমরা আইনে শ্রদ্ধাশীল তদন্তে যা হবে সেটাই মেনে নেবো।

এসময় তিনি আরো অভিযোগ করেন, কয়েকদিন আগে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ করলেও আজ সাংবাদিকদের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সরাসরি ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, মেয়েটাকে তার পরিবার মারধর ও জোবজবরদস্তি করে মিথ্যা বলতে বাধ্য করছে কি-না সেটিও খতিয়ে দেখতে পুলিশের কাছে অনুরোধ জানান তিনি।

মাদরাসার প্রতিষ্টাতা পরিচালক অভিযুক্ত হাছান আলী সব অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে মোবাইল ফোনে বলেন, মেয়েটাকে সন্তানের মতো দেখতাম। গরীব বলে প্রতিমাসে ৫০০ টাকা করে কম নেওয়া হয়েছে। তার প্রাপ্য যদি এরকম হয় শুধু সৃষ্টিকর্তার কাছে বিচার দেবো, তিনি দেখবেন।

এ ব্যাপারে ছাত্রীর বাবা তিবু মিয়া বলেন, আমি আমার মেয়ের বিষয়ে আমি বিচার চাই। আমার মেয়েকে বিয়ে দিতে হবে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি নজমুল হুদা বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মুত্তাজুল বলেন, ৯৯৯ নম্বরের ফোন পেয়ে আমিও ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। যেহেতু মেয়ের পরিবারের অভিযোগ রয়েছে সেজন্য তাদেরকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তাদেরকে থানায় নেওয়ার অন্য কারণ নেই। এসময় ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।



Our Like Page
Developed by: BD IT HOST