স্টাফ রিপোর্টার -ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন অনিয়ম দুর্নীতি ও লুটপাটের রাজ্যে পরিণত হয়েছে।মসিকে অবৈধভাবে ১৩০০ কর্মচারী চাকুরী করছে অর্থের মাধ্যমে নিয়োগ দিয়েছে সিন্ডিকেট চক্র আবার স্বার্থের ব্যাঘাত ঘটলে তাদের নিয়োগ বাতিল করে নতুন করে লোক নেওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগ উঠেছে কর্মচারীদের মাঝে।
কি পরিমান অনিয়ম,দূর্নীতি করলে একটি প্রতিষ্ঠানে নিয়মবহির্ভূ তভাবে প্রায় ১ হাজার তিনশত কর্মচারী অবৈধ উপায়ে নিয়োগ দিয়ে তাদের দিয়ে কাজ করিয়ে হঠাৎ করেই সূত্রে জানা যায় ময়মনসিংহ পৌরসভা থাকাকালীন সময়ে প্রায় চারশত দৈনিক কর্মচারী হিসাবে কাজ করে থাকেন। সিটি কর্পোরেশন ঘোষণা করার সাথে সাথে কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে প্রতারণার মাধ্যমে দৈনিক কর্মচারী নিয়োগ দেন যত্রতত্র।
প্রায় ১ হাজার তিনশত কর্মচারী দৈনিক ভিত্তিক হাজিরা হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যা প্রতিমাসে বেতন বাবদ এক কোটি বিশ লক্ষ টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে। দৈনিক হাজিরা ভিত্তিক কর্মচারীদের।
অনুসন্ধানে জানা যায় অফিস আদেশ বা কাগজপত্র ছাড়াই কাজ করছে ১৩০০ কর্মচারী।
প্রায় প্রত্যেক জনের কাছ থেকে দুই থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা ঘোষ নিয়ে মৌখিক নিয়োগ দেন। মাষ্টার্স ডিগ্রি থেকে শুরু করে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া জানা দৈনিক হাজিরা কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তাদের কোন ফাইলপত্র নাই কিন্তু হাতিয়ে নেন লক্ষ লক্ষ টাকা যাদের কোন নিয়োগপত্র নেই,নেই কোন অফিস আদেশ কিংবা কোন ফাইলপত্র।কেমন করে বেতন ভাতা প্রদান করা হয়েছে তার কোন প্রমান নেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরে।কোন নিয়মে তাদের ব্যাংকে একাউন্ট খোলা হয়েছে তাও বলতে নারাজ কর্তৃপক্ষ।
প্রভাবশালী কর্মকর্তা হওয়ায় তাদের কোন জবাবদিহিতা নেই এ বিষয়ে সংবাদ প্রচার হলেও কোন প্রতিকার নেই মসিকে।যেই লাউ সেই কদু।
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ময়মনসিংহ সিটিবাসী মাস্টার রোলে কর্মরত ৬১৫ জন, ঝাড়ুদার ও লেবার রয়েছে ৬৫৪ জন মোট ১ হাজার দুইশত ঊনষাট কর্মচারী দৈনিক হাজিরা ভিত্তিক কর্মরত আছেন। যাদের কোন নিয়োগপত্র, অফিস আদেশ কিংবা কোন ফাইলপত্র নেই।বিভাগীয় কমিশনার ও মসিক এনিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে এ
পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ পরর্বতীতে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য সংস্কারের কথা বলে কতিপয় অসাধু দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তার যোগসাজশে সংস্কারের পরিবর্তে কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে। পরে আবার – নতুন কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অফিস সূত্রে জানা গেছে- গত ২০১৫ সালে ময়মনসিংহ পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করণের পর জনবল চাহিদা পুরণ করতে প্রায় ১২শত কর্মচারী দৈনিক হাজিরা ভিত্তিতে নিয়োগ দিলে তারা কাজ করে আসছিলো।
আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের দৈনিক হাজিরা ভিত্তিক এসব কর্মচারীরা তাদের বেতন বিভিন্ন বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলে।যার প্রেক্ষি তে সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা সাবেক ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার উম্মে সালমা কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি করেন।
বিভিন্ন ভাতা সহ কর্মচারীদেট যাতে কখনো চাকুরীচ্যাুত না হতে সেই বিষয়ে পদেক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলেও শোনা যাচ্ছে। পরে কিছু দিনপর প্রশাসক ও সিও রদবদল হওয়ার পর নতুন প্রসাশকের সাথে ভারপ্রাপ্ত সিও হিসাবে দায়িত্ব প্রাপ্ত হন ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের সচিব সুমনা মাজিদ । তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২৫/০২/২৫ইং তারিখে হঠাৎ করে অফিসে অনুউপস্থিতি কারণ দেখিয়ে মাত্র ১০ জনকে চাকুরী থেকে অপসারণ করেন। তবে বাস্তব চিত্রে হাজিরা খাতাতে ঐ মাসে দুই তিন করে একেক জনের অনুউপস্থিতি রয়েছে। তারা অফিসে যদি কাজ নাই করে, অফিসে যদি নাই আসে, কি করে তারা হাজিরা ভাতায় স্বাক্ষর প্রদান করে। সংশ্লিষ্ট শাখা প্রধানেরা
তাদের কেন এতো দিন স্বাক্ষর দিতে বাধা দেননি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মচারী জানান অনেকেই অনেক টাকার বিনিময়ে চাকুরী পেয়েছেন, মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র আর আমাদের নিয়ে মাস্টার রোল কর্মচারী বাদ দিয়ে দৈনিক ভিত্তিক কর্মচারী হিসাবে কাজ করছি। কিন্তু এ আবার বলেছেন যে, দৈনিক ভিত্তিক কর্মচারী হলে শুক্রবার ও শনিবার এবং সরকারি বন্ধের মধ্যে ও ফুল বেতন পেয়ে যাচ্ছি। আমরা এর একটি সঠিক নীতিমালা চাই এতটুকু পেলেই আমরা খুশি।
ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন এর দৈনিক ভিত্তিক শ্রমিক নেতা মনির হোসেন বলেন আমরা কিছু দিন আগে আন্দোলন করে ছিলাম আমাদের নিয়োগপত্র বা ফাইলপত্র করার জন্য কিন্তু বেতন বাড়ানো হয়েছে নিয়োগপত্র দেয়নি। স্যার বলেছেন ব্যবস্থা করা হবে, আমরা প্রায় ১৩০০ লোক মসিকের বিভিন্ন দপ্তরে কাজ করছি। অনেকের ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে বেতনের টাকা তোলা হচ্ছে। আমরা আমাদের কাজের স্বীকৃতি টুকু চাচ্ছি আর কি আমাদের এ বিষয়ে বলার কিছু নাই স্যারেরা সকল কিছুই জানেন।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন এর সচিব সুমনা আল মজীদ গণমাধ্যমে কে বলেন মেয়র থাকাকালীন সময়ে দৈনিক হাজিরা ভিত্তিক কর্মচারী নিয়োগ দেন। তাদের কোন নিয়েগপত্র বা ফাইলপত্র নেই।আমাদের সময়ে কোন লেবার কাজে নেওয়া হয়নি এটা শুধু মেয়রের এখতিয়ার। ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ও মসিকের প্রশাসক মোঃ মোখতার আহমেদ জানান তিনি অতিরিক্ত দায়িত্বে আছেন। প্রতিবেদককে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার জন্য বলেন। একার পক্ষে দুইটি দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হয় নাবিষয়ট খোঁজ নিবেন।
একটি সুত্রে জানা যায় সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাঞ্চন কুমার নন্দীর মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে রয়েছে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি।