নিজস্ব প্রতিবেদক, পিরোজপুর:
পিরোজপুরের নেছারাবাদ(স্বরূপকাঠী)উপজেলায় ১২ বছর বয়সী এক ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্য মে অশ্লীল বার্তা,আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও পাঠিয়ে হয়রানি র অভিযোগ উঠেছে একই বিদ্যালয়ের আইসিটি শিক্ষক মো. কায়েস রবিনের (২৮) বিরুদ্ধে। অভিযোগের বিষয়ে স্ক্রিনশট,স্ক্রিন রেকর্ড ও ভিডিওসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্রমাণ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ।
অভিযুক্ত শিক্ষক মো. কায়েস রবিন সুটিয়াকাঠী পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের আইসিটি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।
ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী বর্তমানে বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় সে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি অর্জন করেছিল। পরিবারের দাবি, পড়াশোনায় মেধাবী ও কৃতী এই শিক্ষার্থীর সঙ্গে এমন ঘটনায় তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং সন্তানের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা এইচ.এম.হুমায়ুন আহমে দ (৪৯) বাদী হয়ে গত ৬ আগস্ট ২০২৬ নেছারাবাদ থানায় জিডি নং-১০২ দায়ের করেন মেসেঞ্জারে অশ্লীল বার্তা ও ছবি পাঠানোর অভিযোগ।
জিডি সূত্রে জানা যায়,গত ২৬ জুলাই ২০২৬ রাত আনুমানি ক ৯টার দিকে অভিযুক্ত শিক্ষক কায়েস রবিনের নামে ব্যব হৃত ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে ওই ছাত্রীর কাছে অশ্লীল কথাবার্তা, আপত্তিকর ছবি ও অন্যান্য কনটেন্ট পাঠানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়ে ছে।পরিবারের দাবি,সংশ্লিষ্ট মেসেঞ্জার অ্যাকাউন্টটি ভুক্ত ভোগীর মা মরিয়ম রহমানের নামে থাকলেও সেটি তাদের ১২ বছর বয়সী মেয়ে ব্যবহার করছিল।
প্রমাণ নিয়ে বিদ্যালয়ে গিয়েও প্রতিকার মেলেনি”
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি,ঘটনার পর তারা মেসেজেরস্ক্রি নশট,স্ক্রিন রেকর্ড,ভিডিওসহ সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল প্রমাণ সংর ক্ষণ করেন। পরবর্তীতে এসব প্রমাণ নিয়ে তারা বিদ্যাল য়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষক মিন্টুকে বিষয়টি জানান এবং অভিযো গের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রমাণগুলো সরাসরি দেখান।
পরিবারের অভিযোগ,একজন নাবালিকা শিক্ষার্থীকে ঘিরে এমন গুরুতর অভিযোগ এবং তার পক্ষে থাকা কথিত ডি জিটাল প্রমাণ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সামনে উপস্থাপন করা হলেও প্রধান শিক্ষক অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান বা কার্যকর ব্যবস্থা নেননি।
বরং পরিবারের দাবি,তারা বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রতিকারচাইলে তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয় এবং এক পর্যায়ে অপমানিত করে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী,তাদের উদ্দেশে “যা পারেন করেন” বলেও জানানো হয়।
পরিবারের অভিযোগ,বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সহ যোগিতা পাওয়ার পরিবর্তে এমন আচরণের কারণে তারা বাধ্য হয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারস্থ হন।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন’
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ,তাদের কাছে থাকা ডিজি টাল প্রমাণ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে দেখানোর পরও বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই কিংবা কার্যকরভাবে তদন্ত করা হয়নি। ফলে একজন নাবালিকা শিক্ষার্থীকে ঘিরে গুরুতর অভিযো গ পাওয়ার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল এবং কেন কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ অবস্থায় অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশিবিদ্যা লয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ও অভিযোগ পাওয়ার পর তাদের গৃহীত পদক্ষেপও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে ছে ভুক্তভোগী পরিবার।
থানায় জিডি, তদন্তের দাবি’
পরবর্তীতে সন্তানের নিরাপত্তা, সম্মান ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে ভুক্তভোগীর বাবা নেছারাবাদ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
নেছারাবাদ থানার সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, অভিযোগ টি জিডিভুক্ত করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজ নীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি,তাদের কাছে থাকা স্ক্রিনশট, স্ক্রিন রেকর্ড, ভিডিওসহ অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কাছে উপস্থাপন করা হবে।এসব তথ্যের প্রযু ক্তিগত যাচাইয়ের মাধ্যমে কথিত বার্তা ও কনটেন্টের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পৃক্ততা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার দাবি জানিয়েছে পরিবার।
একই সঙ্গে, অভিযোগ পাওয়ার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা এবং প্রমাণ দেখানোর পরও কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—সেটিও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করার দাবি উঠেছে।
অভিযোগের বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন ডিজিটাল প্রমাণে সত্যতা,উৎস ও প্রাসঙ্গিকতা যথাযথ তদন্ত ও প্রযুক্তিগত যা চাইয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে অভিযুক্ত শিক্ষক বা অন্য কোনো ব্যক্তিকে আইনগতভাবে দোষী হিসেবে গণ্য করা যাবে না।