নিজস্ব প্রতিবেদক:
নিরাপদ রাজশাহী মহানগরী গড়তে মাদক ও অপরাধমুক্ত রাখার অঙ্গীকার করেছেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির। মাদক সেবন থেকেই অপরাধ করার প্রবণতা সৃষ্টি হয়, তাই অপরাধমুক্ত মহানগরী গড়তে মাদক নির্মূলের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করেন তিনি।
আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে দৈনিক ঢাকা টাইমসকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি রাজশাহী মহানগর অপরাধমুক্ত করাসহ নানা পরিকল্পনা ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন কমিশনার।
আরএমপি কমিশনার বলেন, ‘রাজশাহী শহরে মাদক মূলত দুটি রুট দিয়ে ঢোকে- চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও গোদাগাড়ি উপজেলা। পরে তা শহরের বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে যায়। এই রুট ও সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে দিতে শহরের প্রতিটি প্রবেশপথে নিয়মিত পুলিশ চেষ্টপোস্ট বসানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন চেকপোস্টে ধরা পড়েছে মাদকের চালান। এর মধ্যে আছে ইয়াবা, ট্যাপেন্ডাডোল ট্যাবলেট ও গাঁজা। আটক করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট মাদক ব্যবসায়ীদের।
‘পুলিশ টহল জোরদার করায় বেকায়দায় পেড়েছে মাদক ব্যবসায়ীরা। আমার কথা হলো, মাদক ব্যবসায়ী যাতে শান্তিতে মাদক ব্যবসা করতে না পারে। মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে অপরাধ কমে আসবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’
গত কয়েক মাস ধরে মহানগরীর মাদকের স্বর্গরাজ্য নামে খ্যাত আইডি বাগান ও গুড়িপাড়ায় নিয়মিত অভিযান চলছে। অভিযানে স্থানীয় থানার পুলিশ, মহানগর গোয়েন্দা শাখার পাশাপাশি সিআরটি টিম নিয়োমিত অভিযান চালাচ্ছে।
এসব তথ্য দিয়ে কমিশনার বলেন, ‘অভিযানে গ্রেফতার হচ্ছে বিপুল সংখ্যক মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবী। উদ্ধার হচ্ছে মাদকদ্রব্য। ছাড় পাচ্ছেন না মাদকসেবীরাও। এভাবে নিয়মিত অভিযানের ফলে কমে আসছে মাদকবিক্রেতা ও মাদকসেবীর সংখ্যা। এছাড়া আরএমপির সবগুলো থানার অফিসার ইনচার্জদের (ওসি) নিজের দায়িত্বরত এলাকাগুলোতে মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত চেকপোস্ট বসাতে বলা হয়েছে। এসব তৎপরতা আরএমপির নিজস্ব ওয়েভসাইট পেইজে নিয়মিত আপলোড দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আরএমপির (মুখপাত্র) ও উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান প্রেস বিফিংয়ের মাধমে তা তুলে ধরছেন।’
শহরের বিভিন্ন মোড়ে ট্রাফিক চেকপোস্ট বসিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের গ্রেফতার করা হচ্ছে জানিয়ে কমিশনার বলেন, ইফটিজিংসহ বিভিন্ন অপরাধ রুখতে এমন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
মাদক অথবা অর্থ কেলেঙ্কারীর সাথে কোনো কোনো পুলিশ সদস্যের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ সম্পর্কে আরএমপি কমিশনার বলেন, ‘আমার বাহিনীর কোনো পুলিশ সদস্য জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আরএমপি থেকে ইতোমধ্যে অনেক পুলিশ সদস্যকে বদলি করা হয়েছে। যারা দীর্ঘদিন ধরে আরএমপিতে কর্মরত আছেন, তাদের বিরুদ্ধেও খোঁজ-খবরে নেয়া হচ্ছে। আমার বিশ্বাস আরএমপির এ কঠোর পদক্ষেপের কারণে তারাও সতর্ক হয়ে গেছেন।
‘কোনোভাবেই কারো অপরাধ ক্ষমা করা হবে না। গত মাসেই দুজন পুলিশ সদস্যকে অর্থ কেলেঙ্কারীসহ বিভিন্ন অপরাধে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তবে মহানগরবাসীর সহযোগিতা ছাড়া এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব ছিল না।’
ভবিষ্যতে তার কোনো বিশেষ পরিকল্পনা আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে কমিশনার বলেন, ‘রাজশাহীর মানুষ শান্তিপ্রিয়, তারা ঝমেলামুক্ত থাকার চেষ্ট করেন সবাই। গুটি কয়েক অপরাধীর জন্য শান্ত শহর অশান্ত হয়ে উঠবে তা মেনে নেয় যাবে না।’
শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বিষয়ে কশিশনার বলেন, ‘শহরের যানজট নিরসনে কাগজ ও হেলমেটবিহীন মোটরসাইকেল ধরে জরিমানা করা হচ্ছে। বাদ পড়ছে না রিকশা, অটোরিকশাও।
‘শহরের বাইরে থেকে রিকশা ও অটোরিকশা ঢুকছে কি না নজর রাখা হচ্ছে। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সাথে আরএমপির কর্মকর্তারা বসেছেন বেশ কয়েকবার। কাগজবিহীন কিংবা একই রেজিস্ট্রেশন নম্বরে চলাচলকারী রিকশা-অটোরিকশার বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে তাদের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সহযোগিতার প্রস্তুতি নিচ্ছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের যানবাহন বিভাগ।’
শহর যানজটমুক্ত করতে যে ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন তা অবশ্যই নেয়া হবে- এ কথা উল্লেখ করে আরএমপি কমিশনার বলেন, ‘তবে শহরের বেশ কয়েকটি জায়গায় ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজ চলমান থাকায় বিভিন্ন যানবাহনের চাপ একটু বেশি দেখা হচ্ছে। ফ্লাইওভারের কাজ শেষ হলে শহরের যানজট অনেকটা কমতে পারে।’