April 22, 2026, 5:24 pm
শিরোনামঃ
বোরো মৌসুমে ধান, চাল ও গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ও মূল্য নির্ধারণ : ৩ মে থেকে ধান ও গম এবং ১৫ মে থেকে চাল সংগ্রহ শুরু ডিএমপির ট্রাফিক পুলিশ কর্তৃক এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রথম দিনে সহায়তা পেল শতাধিক পরীক্ষার্থী ভূমি মন্ত্রণালয়ের বড় পদোন্নতি: ৩২১ জন সার্ভেয়ার ও ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা কানুনগো পদে পদোন্নতি ময়মনসিংহে বিএনপির নেতা বডি মাসুদ গ্রেফতার: ১২ লাখ টাকার ভারতীয় জিরা উদ্ধার এনবিআরের রাজস্ব ঘাটতি ৯৮ হাজার কোটি টাকা ময়মনসিংহে কলেজ ছাত্র হত্যা মামলায় ৭ জনের মৃত্যুদন্ড ও ২ জনের কারাদন্ড রাজধানীতে গার্মেন্টস কারখানায় এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে গুলি করার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ কে এই ‘সাংবাদিক তৈরির কারিগর’ কথিত সাংবাদিক আবুল হাসেম?“৫ম শ্রেণি পাশ করলেই জালে প্রতারিত অনেকে ঢাকার ৭ পাম্পে ‘ফুয়েল পাস’ বাধ্যতামূলক শান্তিপূর্ণ পরীক্ষা নিশ্চিত করতে ডিএমপির কড়া বিধিনিষেধ, যা যা জানা প্রয়োজন
নোটিশঃ
আপনার আশেপাশের ঘটে যাওয়া খবর এবং আপনার ব্যবসার বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য যোগাযোগ করুন মানবাধিকার খবরে।

কুড়িগ্রামে গবাদিপশু পালন করে স্বাবলম্বী, চরাঞ্চলের বাসিন্দারা

Reporter Name

নয়ন দাস,কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ

কুড়িগ্রামে প্রায় সাড়ে চার শতাধিক চরাঞ্চল রয়ে ছে। এসব চরের অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র। তাদের জীবনযাত্রার মানও নিম্ন। তাছাড়া প্রতি বছর বন্যা,খরা ও নদীভাঙনসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যো গের সঙ্গে মোকাবিলা করে তাদের বেঁচে থাকতে হয়।

জানা গেছে, এসব চরের বাসিন্দাদের কৃষির পাশাপাশি আয়ের অন্যতম উৎস গবাদিপশু পালন। গরু-ছাগল পালন করে বাড়তি আয় কর ছেন তারা। দূর হচ্ছে পরিবারের অভাব-অনটন। তারা বলছেন, বালু মাটিতে বিভিন্ন ফসল আবাদ করে মিটছে না তাদের প্রয়োজনীয় চাহিদা। তাই গবাদিপশু পালনই হয়ে উঠছে তাদের ভরসা।

কুড়িগ্রাম প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৯ উপজেলায় ৯ লাখ ৩১ হাজার ৪৫২টি গরু রয়েছে। এর মধ্যে দেশি জাতের গাভি ২ লাখ ৭৮ হাজার ৭৮৬টি,সংকর জাতের গাভি ৫০ হাজার ১২৪টি,দেশি জাতের বকনা ১ লাখ ৪৪ হাজার ৭৯৮টি,সংকর জাতের বকনা ৩৯ হাজার ৮৫৭টি, দেশি জাতের ষাঁড় ও বলদ ১ লাখ ৭৯ হাজার ৮৩২টি, সংকর জাতের ষাঁড় ও বলদ ৫৫ হাজার ৩৯৬টি,দেশি জাতের বাছুর ১ লাখ ৪৬ হাজার ৯৩৬টি,সংকর জাতের বাছুর ৩৫ হাজার ৭২৩টি। এছাড়া মহিষ রয়েছে ৯ হাজার ৫২৭টি, ছাগল ৬ লাখ ১২ হাজার ৬২টি এবং ভেড়া রয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ৮৩১টি।

জানা গেছে, জেলার ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা, দুধ কুমার, ফুলকুমার, জিঞ্জিরামসহ ছোট বড় ১৬টি নদ-নদীর অববাহিকায় রয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ শতা ধিক চরাঞ্চল। এসব চরাঞ্চলে বসবাস করছেন প্রায় ৫ লক্ষাধিক মানুষ। চরাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষদের একমাত্র পেশা কৃষি। কিন্তু প্রতি বছর বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয় চরাঞ্চল গুলো তে।

তাছাড়া প্রতি বছর নদ-নদীর ভাঙনে ভিটে-বাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয় শত শত পরিবার। এই পরিস্থি তিতে চরাঞ্চলের জমিতে ধান,কাউন,বাদাম, চিনাসহ শুধু মৌসুমি ফসল চাষ করে সংসার চলছে না তাদের। তাই নিজেদের টিকিয়ে রাখতে গবাদিপশু পালনই ভরসা হয়ে উঠেছে এখান কার বাসিন্দাদের।

সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের মাঝের চর এলা কার মানিক মতি বলেন, আমরা চরে থাকি। আমাদের চারদিকে নদী ও ভাঙন। এখানে আবাদ বসত হয় না। যেটুকু আবাদ হয় তা তো বন্যায় শেষ করে দেয়। আমরা অন্য এলাকা থেকে গরু (আদি) বর্গা আনি। পালন করার পর একটা বাছুর হলে সেটা কিছু দিন লালন পালন করে বিক্রি করে ভাগ করে নিই। বর্তমানে আমার বাড়িতে চারটি গরু আছে। বছরে দেখা যায় ২০-২৫ হাজার টাকা আসে গরু বিক্রি থেকে।

ওই এলাকার রহিম মিয়া বলেন,আমাদের এখানে কোনো কাজ-কর্ম নেই গরু বর্গা এনে এখানকার খোলা মাঠে পালন করি। গরু পালন করে যে আয় হয়,তা দিয়ে সংসার ভালোই চলে। আমাদের এখানে কম-বেশি প্রতি বাড়িতে গরু আছে সবাই গরু পালন করে।

কৃষক আবুল কাশেম বলেন,আমাদের চরে কৃষি আবাদের পাশাপাশি গরু পালন করি। গরু দিয়ে যে লাভ হয় তা দিয়ে জীবন-যাপন করি। আমরা চরের লোক দুর্যোগের সঙ্গে সব সময় মোকাবিলা করেই বেঁচে থাকি। বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি হয় অনেক। বাইরে গিয়ে টুকটাক কাজ করে আনি, আর গরু পালন করে ভালোই চলি।

সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল গফুর বলেন, আমার যাত্রাপুর ইউনি য়নে ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার ও গঙ্গাধরসহ চারটি নদী রয়েছে। এসব নদ-নদীর অববাহিকায় চর দ্বীপ সহ প্রায় ১৬টি চর রয়েছে। এখানে প্রায় তিন হাজার পরিবারের বসবাস। দেখা যায় তাদের স্বামী-সন্তান বাইরে কাজ করে আর বাড়িতে নারীরা গরু পালন করে অনেক লাভবান হচ্ছে বর্তমানে তাদের আয়ের উৎস হচ্ছে গরু পালন।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. ইউনুস আলী বলেন, কুড়িগ্রাম জেলার চরাঞ্চ লের অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র। তাদের জীবন যাত্রার মানও নিম্নমানের। জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে তারা গবাদিপশু পালনের ওপর নির্ভর করে। চরাঞ্চলের কাছে ঘাসের অভাব হয় না। গরু-ছাগল মাঠে ছেড়ে দিয়ে লালন-পালন করেন তারা। এতে করে তাদের খাদ্য খরচ লাগে না, আবার গবাদিপশু সুস্থ থাকে। আমাদের বিভাগ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত আছে।



Our Like Page
Developed by: BD IT HOST