ড. মিজানুর রহমান আজহারী সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ভুয়া বিজ্ঞাপন তৈরি করে যৌন উত্তেজক ঔষধ বিক্রয়ের সাথে জড়িত চক্রের ১০ (দশ) সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পল্টন মডেল থানা পুলিশ
প্রথম বাংলা – আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ড. মিজানুর রহমান আজহারী সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ভুয়া বিজ্ঞাপন তৈরি করে যৌন উত্তেজক ঔষধ বিক্রয়ের সাথে জড়িত চক্রের ১০ (দশ) সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পল্টন মডেল থানা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- ১। মোঃ সারাফাত হোসেন (২১) ২। সাফায়েত হোসেন শুভ (২১) ৩। তৌকি তাজওয়ার ইলহাম (১৯) ৪। তাকিবুল হাসান (২১) ৫। আব্দুল্লাহ আল ফাহিম (২২) ৬। মিনহাজুর রহমান শাহেদ (১৯) ৭। শাহামান তৌফিক (২১) ৮। ইমন হোসেন বিজয় (২১) ৯। অমিদ হাসান (২১) ও ১০। মোঃ ইমরান (২৪)।
গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ১১:০৫ ঘটিকায় চট্টগ্রাম এর বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন শেরশাহ কলোনী এলাকা হতে ১ থেকে ৯ নং অভিযুক্তদের ও শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৯:৫০ ঘটিকায় মোহাম্মদপুর থানাধীন চন্দ্রিমা মডেল টাউনস্থ এভিনিউ-১ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মো: ইমরানকে গ্রেফতার করা হয়।
পল্টন মডেল থানা সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, যখন ভুক্তভোগী জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারী প্রথম এসব ভুয়া ভিডিও দেখতে পান। পরে তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সতর্কতামূলক পোস্ট দেন। পরবর্তীতে ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে পল্টন মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারী-এর নাম, ছবি, কণ্ঠস্বর ও ভিডিও ব্যবহার করে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) ও ডিপফেক প্রযুক্তির মাধ্যমে ভুয়া প্রচারণা চালিয়ে প্রতারণার অভিযোগে একাধিক ফেসবুক পেজ, আইডি ও ওয়েবসাইটের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীর পক্ষে জনৈক বিল্লাল হোসেন (৫৭) আমমোক্তারনামা নিয়ে অভিযোগের প্রেক্ষিতে পল্টন থানায় দায়েরকৃত মামলা নং-১৯, জিআর নং-১০৭/২৬, তারিখ- ২৩/০৪/২০২৬ খ্রি.; ধারা- ২২/২৭ সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬) মামলা দায়ের করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ভুয়া ভিডিও তৈরি করে ভেষজ ওষুধসহ বিভিন্ন পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার করে আসছে। এসব ভিডিও এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন ড. আজহারী নিজেই পণ্যগুলোর প্রচার করছেন, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার কণ্ঠ ও চেহারা নকল করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সুনাম ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়। এসময় তাদের হেফাজত হতে ১১ টি ল্যাপটপ, ৪৭ টি স্মার্ট মোবাইলফোন, দুইটি পেনড্রাইভ, ২১ সিম ও বিপুল পরিমাণে যৌন উত্তেজক অবৈধ ঔষধ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃতরা অসাধু চক্রের সক্রিয় সদস্য।
তারা দীর্ঘদিন ড. মিজানুর রহমান আজহারী, ডা. তাসনিম জারা ও ডা. জাহাঙ্গীর কবিরসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ভুয়া বিজ্ঞাপন তৈরি করে যৌন উত্তেজক ঔষধ বিক্রয়ের সাথে জড়িত মর্মে স্বীকার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীণ।