মেহেন্দিগঞ্জ প্রতিনিধি
মেহেন্দিগঞ্জের দক্ষিণ উলানিয়া ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামে র বুড়ির পুল নামক এলাকায় গত ২২ মার্চ ২০২৩ ইং একদ ল সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে আহত করে ওই ইউপির চেয়ার ম্যান মিলন চৌধুরীর ভাই শরীফ চৌধুরী লিখনকে। এতে প্রাণে রক্ষা পেলেও একটি চোখ হারাতে হয়েছে শরীফ চৌধুরী লিখনের। হামলায় লিখনের পক্ষের আরও ৫-৬ জন জখম হয়। হামলায় লিখনের ডান চোখ চিরতরে নষ্ট হয়ে গেছে অপর ২জন বাছেদ রাঢ়ী ও আজাদ পালোয়ান গুরুতর আহত গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন চেয়ারম্যান কাজী আবদুল হাই চৌধুরী মিলন,ঢাকায় চিকি ৎসকরা জানিয়েছে, লিখনের ডান চোখ নষ্ট হয়ে গেছে ওই চোখ দিয়ে পৃথিবীর আলো বাতাস দেখার সম্ভাবনা নেই। গত ১০দিন ধরে ডান চোখটি হারিয়ে লিখন ঢাকা জাতীয় বিজ্ঞান ও চক্ষু ইনস্টিটিউট হাসপাতালে অনেকটাই বাকরুদ্ধ হয়ে কাতরাচ্ছেন।
অভিযোগ রয়েছে গোবিন্দপুর ইউপির সদস্য শফিক জম দ্দারের নেতৃত্বে এই সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। হামলায় মেহেন্দিগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন আহত পক্ষের মোঃ নান্নু বেপারি। মামলা নং ১৭/৫৩ এবং ধারা ৩২৫, ৩২৬ ও ৩০৭। ওই মামলায় একজন আসামিকে পুলিশ গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন অন্যরা পুলি শের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। মামলায় এজাহার নামীয় সকল আসামি মুক্তি পাওয়ায় হতাশ আহতের পরিবারের সদস্যরা। বরিশাল জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারিক আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয় সকল আসামি। পরিবা রের সদস্যরা দুঃখ প্রকাশ করেছেন। দুঃখ প্রকাশ করে আহত লিখনের ভাই মিলন চৌধুরী বলেন, ‘আমার ভাইকে যারা প্রকাশ্যে নির্মমভাবে চোখ নষ্ট করেছে তাদের জেলে প্রেরণ না করেই আদালত কিভাবে জামিন দিল তা আমার জানা নাই। তবে এ ধরনের মামলার আসামীরা সহজে জামিনে মুক্ত হলে আরো ঘটনা ঘটাতে পারে।
মামলার এজাহার সুত্রে জানা যায়, পুর্বে ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিরোধের জেরে, ঘটনার দিন ২২-০৩-২০২৩ ইং বাদী নান্নু বেপারির চাচাতো ভাই মুসা কালিমুল্লাহ, জিসানস হ তাদের অন্যান্য বন্ধুরা মিলে বুড়িরপুল বাজারে মামুনের দোকানের পাশে চা পান করছিলো এমন সময় প্রতিপক্ষ জাহাঙ্গীর ও খায়রুল মামুনের মামুন দোকানের সামনে দিয়ে যাবার সময় মুসা কালিমুল্লাহ ও তার বন্ধুদের দেখতে পেয়ে গালাগালি করে। মুসা কালিমুল্লাহ আসামীদ্বয়কে গালাগালি করতে নিষেধ করিলে আসামি জাহাঙ্গীর ও খায়রুল মিলে মুসা কালিমুল্লাহ ও জিসানকে এলোপাথাড়ি কিল ঘুষি মারে।মুসা কালিমুল্লাহ উক্ত ঘটনার বিষয় মোবাইল ফোনে উলানিয়া দক্ষিণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিলন চৌধুরীর ভাই শরীফ চৌধুরী লিখনকে জানায় এবং বিরোধ মিমাংসা করে দেওয়ার জন্য।
শরীফ চৌধুরী লিখন ঘটনার বিষয় জানতে পেরে উক্ত বিরোধ স্থানীয় ভাবে মীমাংসা করে দেওয়ার জন্য তার সঙ্গীয় বাছেদ রাঢ়ী,আজাদ পালোয়ান,ফয়সাল রাঢ়ী,অহিদ চৌকিদার,জসিমসহ কতেক লোকজন নিয়ে বুড়িরপুল বাজারে আসে।শরীফ চৌধুরী লিখন তার সঙ্গীয় লোকজন ও আমি সহ ঘটনার দিন ২২-০৩-২০২৩ ইং বিকাল আনুমা নিক সোয়া ৫ টায় বুড়িরপুল বাজারের চৌরাস্তায় পৌঁছলে সকল আসামিরা বে আইনৌ জনতাবদ্ধেদা,রামদা,টেডা, জিআই পাইপ,লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাদের পথরোধ করে এলোপাতাড়ি মারধর করে। হামলায় ৪ জন আহত হয়। এদের মধ্যে জখমী শরীফ চৌধুরী লিখন ও আজাদ পালোয়ানকে প্রথমে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে সেখান থেকে বরিশাল শেবাচিমে প্রেরণ করা হলে কর্তব্যরত ডাক্তার অবস্থা আশংকাজনক দেখে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করেন। অপর দুই আহত বাছেদ রাঢ়ী ও ফয়সালকে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এই বিষয়ে গণমাধ্যমকে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য শফিক জমদ্দার বলেন, আমি হামলার নেতৃত্ব দেইনাই এমনকি হামলার সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই।