October 26, 2026, 9:32 pm
শিরোনামঃ
হযরতপুরে চাচা হাজী দুঃখ মিয়া বিরুদ্ধে জাল দলিল ও জমি দখলের অভিযোগ তুলেছে ভাতিজা আলা. শারদীয় দুর্গাপূজার সমাপ্তি: ডিএমপির কঠোর নিরাপত্তায় শান্তিপূর্ণ বিজয়া শোভাযাত্রা ও প্রতিমা বিসর্জন কালীগঞ্জে ১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগ, আটক ৩ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব জনাব আবদুল খালেক দুই দিনের সরকারি সফরে নেত্রকোণা” সমৃদ্ধ ও আধুনিক ‘স্মার্ট-দিঘলী’ গড়ার চেয়ারম্যান প্রার্থী আক্তারুজ্জামান আপন প্রত্যয় চট্টগ্রামে চিনি বোঝাই কার্ভারভ্যানে ছিনতাইঃ বান্দরবানের লামা থেকে ১৪৪ বস্তা চিনি উদ্ধার রায়পুরে ৮ নং দক্ষিণ চরবংশী ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় বিএনপি নেতা হারুনুর রশিদ হাওলাদার রাজারহাট সদর ইউনিয়নে বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেন শাহাদাত হোসেন লাল ময়মনসিংহে শারদীয় দুর্গোৎসবের বিজয়া দশমী কঠোর নিরাপত্তায় নির্বিঘ্ন প্রতিমা বিসর্জন শারদীয় দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন পর্যবেক্ষণ ও শুভেচ্ছা বিনিময়
নোটিশঃ
আপনার আশেপাশের ঘটে যাওয়া খবর এবং আপনার ব্যবসার বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য যোগাযোগ করুন মানবাধিকার খবরে।

কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য গরু মহিষের গাড়ি

Reporter Name

মোঃ শফিকুল ইসলাম,ষ্টাফ রিপোর্টার

ওকি গাড়িয়াল ভাই হাঁকাও গাড়ি তুই চিলমারীর বন্দরে
এই সারাজাগানো ভাওয়াইয়া গানের মাধ্যমে হয়তো বেঁচে থাকবে গরুর গাড়ি নামক ঐতিহ্যবাহী গ্ৰাম বাংলার গরু মহিষের গাড়ি নামক বস্তুটি।

কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গরু-মহিষের গাড়ি, এক সময় প্রধান বাহন হিসেবে গরু মহিষের গাড়ির কদর ছিল অপরিসীম।
৮০-৯০ দশকে গরু বা মহিষের গাড়ির প্রচলন থাকলেও বর্তমান আধুনিক বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তির ছোঁয়ায় মানুষ এখন মহিষের গাড়ি রেখে ট্রেন, বাস, আর ট্রাকের সাথে উন্নততর জীবন পরিচালনা করছেন।মহিষের গাড়িতে যেখানে একস্থান থেকে অন্যস্থানে যাতায়াত করতে দিন পেরিয়ে যেত। সেখানে এখন আধুনিক পরিবহন ব্যবহারে সময় লাগে মাত্র কয়েক ঘণ্টা।

কৃষি কাজে এখন আধুনিকতা এসে গেছে চাষাবাদ হচ্ছে আধুনিক ইন্জিল চালিত যন্ত্রপাতি দিয়ে।এখন যে দুই একটি মহিষের গাড়ি দেখা যায় তা মানুষ সকের বসে ব্যবহার করছে।এ কারণে মহিষের গাড়ি তেমন আর দেখা যায় না।
মহিষের গাড়ির প্রচলন আদিকাল থেকেই।গরুর গাড়িতে বিয়ে, বরযাত্রী, মালামাল পরিবহন, নাইয়রি আনা নেয়া ইত্যাদি এক সময় হতো খুব জাকজমকের মধ্য দিয়ে।এছাড়া প্রায় প্রতিটি বাড়ির আঙ্গিনায় শোভা পেতো এই দু’ চাকার গাড়িটি। এক সময় কুড়িগ্রাম জেলায় যে কোন গ্রামে অবশ্যই চোখে পড়তো গরু কিংবা মহিষের গাড়ি।সেই দৃশ্য খুব একটা এখন চোখে পড়ে না।

প্রত্নতাত্বিক গবেষণা গ্রন্থ ও বাংলা বিশ্বকোষ সূত্রে জানা গেছে, ব্রোঞ্জ যুগের পূর্বে গোলার্ধে কুমারের চাকা এবং গাড়ির শঠিন কাষ্ঠ নির্মিত চাকাটির মতো চাকা সর্বপ্রথম মানুষ ব্যবহার শুরু করে।মিশরীয় ব্যাবিলন এবং ভারতের সভ্যতায় চাকাওয়ালা গাড়ি ছিল।এ থেকে ধারণা করা যায় চাকার প্রাথমিক আবিস্কার ৬ হাজার বছর আগে।

৬ হাজার বছর আগে কাঠ, পাথর, মালপত্র এবং অন্যান্য জিনিসপত্র বয়ে নিয়ে যাওয়া হতো ঢালু পথে গোলাকৃতি কাঠের গুঁড়ির ওপর দিয়ে।এই কাঠের গুঁড়ি থেকে মানুষের মাথায় চাকার ধারণা আসে।একটি বসবার জায়গা তৈরি করে তার দুদিকে দুটো চাকা জুড়ে দিয়ে তৈরি করা হয় গাড়ির প্রচলন।এক সময় গাড়ি টানার জন্য ব্যবহৃত হতো গরু, মহিষ, ঘোড়া, কুকুর ও মানুষ।

এ সময় গরুর গাড়ির চাকায় লৌহ আবরন ছিল না কেবল কাঠ দ্বারা নির্মিত হতো।দ্রারিড় যুগে যখন এ অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে তখন থেকে লোহার ব্যবহার চালু হয়।১৬৪৬ সালে বাই সাইকেলের আবিস্কার, ১৮২৬ সালে রেল ইঞ্জিন আবিস্কার, এর পরে মটর গাড়ি বাস, ট্রাক, মটর সাইকেল শ্যালো চালিত যান ইত্যাদি আবিস্কার হলে পুরনো যানবাহনের যায়গা দখল করে নেয়।

কিছুদিন আগেও এ অঞ্চলে গরুর গাড়ির ক্যাচ ক্যাচ শব্দে মুখরিত ছিল চার পাশ।গরুর খুড়ার ধুলি গৃহস্থলের হাক ডাক ছিল নিত্য নৈমিত্তিক।
রাজারহাট উপজেলার পেটভাতা গ্রামের বাসিন্দা মো :আঃ জলিল ( ৬৫) জানান আমরা বিয়ে বাড়ি থেকে শুরু করে নিত্য নৈমিত্তিক মালামাল পরিবহনের কাজে গরু মহিষের গাড়ি ব্যবহার করতাম কিন্তু আজ
গরু মহিষের গাড়ি প্রায় গল্পের মতো আবহমান গ্রাম বাংলা থেকে বিলীন হয়ে যেতে বসেছে।গরু মহিষের গাড়ি সম্পর্কে জানতে হলে আগামী প্রজন্মকে হয়তো জাদুঘরে যেতে হতে পারে।



Our Like Page
Developed by: BD IT HOST