জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করব : নবনিযুক্ত দুদক চেয়ারম্যান
Reporter Name
Update Time :
Wednesday, August 19, 2026
/
43 Time View
/
Share
সেলিম মিয়া : জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে দেশের ১৮ কোটি মানুষের স্বার্থে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে নতুন কমিশনের প্রথম কার্যদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এ সময় দুই কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম খান ও সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দুর্নীতি দমন কমিশনের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করা এবং দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার জোর প্রতিশ্রুতি দেন। স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক, সামাজিক বা প্রাতিষ্ঠানিক চাপ রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে তারা সম্পূর্ণ চাপমুক্ত থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করছেন। কাজের গতিপথে কোনো সংকট বা বাধা এলে তা সাহসিকতার সঙ্গে সমাধানের আশ্বাসও দেন তিনি। একইসঙ্গে নতুন এই পদযাত্রায় দেশবাসীর দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কমিশনার ড. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া কমিশনের কাজের সততা ও নিরপেক্ষতার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, একজন অত্যন্ত অভিজ্ঞ বিচারকের সুচিন্তিত নেতৃত্বে দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিটি বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই কমিশনের কাজের লক্ষণীয় অগ্রগতি দেখতে পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এর আগে, গত ১৮ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের পর কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে প্রথম কার্যদিবসে দায়িত্ব পালন শুরু করেন তারা। এরপর আজ বুধবার দুদক চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান এবং দুই কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম খান ও সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া প্রথম দিনের মতো অফিস করেন। সকাল ৯টার দিকে তারা দুদকে প্রবেশ করেন। সকাল ১০টায় পূর্বনির্ধারিত মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তারা। যেখানে দুদক সচিব সাইদুর রহমান ও মহাপরিচালকসহ উপ-পরিচালক পর্যায় পর্যন্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, গত ৩ মার্চ পূর্ববর্তী কমিশন পদত্যাগ করার পর দেশে দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম সচল রাখতে সরকার নতুন নেতৃত্ব গঠনের উদ্যোগ নেয়। এর ধারাবাহিকতায় মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে সদস্যসচিব করে একটি সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। একাধিক ধারাবাহিক বৈঠক ও যোগ্য প্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত পর্যালোচনার মাধ্যমে এ কে এম আসাদুজ্জামান, ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়ার নাম চূড়ান্ত করা হয়, যা পরবর্তীতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সই করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঘোষণা করা হয়।
২০০৪ সালের ২১ নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশনে প্রথম চেয়ারম্যান বিচারপতি সুলতান হোসেন খান থেকে শুরু করে সর্বশেষে মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের নেতৃত্বাধীন কমিশন পর্যন্ত মোট সাতটি কমিশন দায়িত্ব পালন করেছে।