August 30, 2026, 9:22 pm
শিরোনামঃ
দুদকের অনুসন্ধান ও বিভাগীয় ম’মলা চলার মধ্যেই বিএসইসির দুই কর্মকর্তার পদোন্নতি পূর্বধলা সাবরেজিষ্ট্রি অফিসে দুর্নীতির মহোৎসব: হাফিজ-সুজন সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি সেবাগ্রহীতারা শাহজাদপুর উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির আলোচনা সভা সাংবাদিকতার আড়ালে চাঁদাবাজি: অনিবন্ধিত পোর্টাল ও ফেসবুক পেজের দৌরাত্ম্য বেগমগঞ্জে বিপুল পরিমান গাঁজাসহ এক নারী গ্রেপ্তার এম জি বাবর চকরিয়ায় বসতবাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট নোয়াখালী কর্তৃক অভিযান সাতশত পিস ইয়াবা সহ ০১ জন আসামি গ্রেফতার ডিবি দেশে সকল জেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণে খাদ্য মজুত আছে : খাদ্যমন্ত্রী ৮ বছর পর জামালপুরের মোটরসাইকেল চালক হত্যার রহস্য উদঘাটন ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি নবনিযুক্ত বাসসের এমডিকে সাংবাদিক-কর্মকর্তা- কর্মচারীদের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা
নোটিশঃ
আপনার আশেপাশের ঘটে যাওয়া খবর এবং আপনার ব্যবসার বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য যোগাযোগ করুন মানবাধিকার খবরে।

পূর্বধলা সাবরেজিষ্ট্রি অফিসে দুর্নীতির মহোৎসব: হাফিজ-সুজন সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি সেবাগ্রহীতারা

Reporter Name

মোঃ সেলিম : নেত্রকোনা জেলায় পূর্বধলা সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে চলছে দুর্নীতির মহোৎসব। অফিস সহকারী হাফিজ উদ্দিন এবং নকলনবিশ শ্রী সুজন চন্দ্র দাসের শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন সাধারণ সেবা প্রত্যাশীরা।

সরকারি নির্ধারিত ফির তোয়াক্কা না করে গ্রাহকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এই চক্রের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, এই বিশাল অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের পেছনে খোদ সাব-রেজিষ্ট্রারেরও পরোক্ষ যোগসাজশ রয়েছে। ​

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পূর্বধলা সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে প্রতিটি সেবামূলক কাজের জন্য সুনির্দিষ্ট সরকারি ফি নির্ধারণ করা থাকলেও, এখানে চলছে প্রকাশ্য চাঁদাবাজি।

​সম্প্রতি পূর্বধলা সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে ঘটে যাওয়া একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা এই দুর্নী’তির বাস্তব চিত্র ফুটিয়ে তোলে।

​এক ভুক্তভোগী গ্রাহক নিজের স্ট্যাম্প কম্পোজ করা দুটি নকল (সার্টিফাইড কপি) তুলতে অফিসে যান। নিয়ম অনুযায়ী যেখানে নকল প্রতি সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা খরচ হওয়ার কথা, সেখানে অফিস সহকারী হাফিজ উদ্দিন ওই গ্রাহকের কাছে ৪,০০০ টাকা দাবি করেন। দরিদ্র ওই গ্রাহক নিরুপায় হয়ে সাব-রেজিষ্ট্রারের শরণাপন্ন হলে, অফিসার নকলনবিশ সুজন চন্দ্রকে ডেকে শুধু মূল সরকারি ফি রাখার নির্দেশ দেন।

​কিন্তু সাব-রেজিষ্ট্রারের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সুজন চন্দ্র সাফ জানিয়ে দেন, “অফিসার কী বলল তাতে কিছু যায় আসে না। ৪০০০ টাকা ছাড়া কোনো নকল ডেলিভারি দেওয়া সম্ভব না।” শেষ পর্যন্ত কোনো উপায় না দেখে, ওই গ্রাহক তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য পকেটে রাখা ৪,০০০ টাকা সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হন।
এছাড়া ​মাসের পর মাস অতিবাহিত হলেও রেজিস্ট্রি করা দলিলের মূল রিসিট গ্রাহকদের দেওয়া হচ্ছে না।

​অভিযোগ রয়েছে, সুজন চন্দ্র একজন নকলনবিশ হিসেবে মূল দায়িত্ব বালাম বইয়ে দলিল লিপিবদ্ধ করার কথা থাকলেও, তিনি সেই সরকারি কাজ ফেলে রেখে অতিরিক্ত টাকার লোভে শুধু ‘নকল ডেলিভারি’র কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এর ফলে অফিসের মূল নথিপত্র সংরক্ষণের কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে।

​গ্রাহকদের দাবি, উৎকুচ (ঘু’ষ) না দিলে এখানে কোনো দলিল ছাড় করা হয় না, এমনকি দলিলের নকলও আটকে রাখা হয়। এছাড়া অফিস সহকারী হাফিজ উদ্দিন ও নকলনবিশ সুজনের রুক্ষ ও অশোভন আচরণে আগত সাধারণ সেবা প্রত্যাশীরা প্রতিনিয়ত চরম হে”নস্তার শিকার হচ্ছেন।

​স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা নকলনবিশ সুজন চন্দ্র দাস বিগত সরকারের প্রভাব খাটিয়ে এবং একটি বিতর্কিত সংগঠনের সক্রিয় সদস্য পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই কার্যালয়ে আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও প্রভাবশালী অফিস সহকারী হাফিজ উদ্দিনের সাথে নতুন করে সমঝোতা জকরে তার এই প্রভাব ও ঘু’ষ বাণিজ্য অপরিবর্তিত রেখেছেন। সাধারণ মানুষ তো বটেই, খোদ সাব-রেজিষ্ট্রারও এই সিন্ডিকেটের কাছে একপ্রকার অসহায়, কিংবা পরোক্ষভাবে এই বাণিজ্যের অংশীদার বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

​স্ট্যাম্প কম্পোজ করার পরও সাধারণ মানুষকে এভাবে জি”ম্মি করে অর্থ আদায় এবং অশোভন আচরণের ঘটনায় পূর্বধলার সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী অবিলম্বে এই দুই দুর্নীতি বাজ চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্তপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা রেজিস্ট্রারসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।



Our Like Page
Developed by: BD IT HOST