সিরাজুল ইসলাম,বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান চট্টগ্রাম,বান্দরবা নের লামা উপজেলার ৩ নম্বর ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গুলিস্তান বাজার সংলগ্ন এলাকায় একটি পরিবারের ওপর সংঘবদ্ধ সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, হামলার পর তাদের বসতঘর ভেঙে বসবাসের অযোগ্য করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে নারী ও শিশুদের নিয়ে তারা খোলা আকাশের নিচে মানবে তর জীবনযাপন করছেন এবং প্রতিনিয়ত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৫ জুলাই ২০২৬ রাত আনুমানিক ২টার দিকে ১৫–২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে হামলা চালায়। পরিবারের সদস্যদের দাবি, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে দরজা কেটে ঘরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট ও মারধর চালায়। এ সময় বাড়ির নারী সদস্যদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগও তোলা হয়েছে।
হামলায় আহত মনোয়ারা বেগম ও ফজল করিমকে চকরি য়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, চিকিৎসার পর হাসপাতাল থেকে পুলিশ কেস সংক্রান্ত মেডিকেল সনদও প্রদান করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ডেবিট কর্মকার, নজরুল ইসলাম ও মৃদুল কর্মকারের নেতৃত্বে হামলাটি সংঘটিত হয়ে ছে। তবে এ বিষয়ে মৃদুল কর্মকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনার সময় তিনি এলাকায় ছিলেন না এবং পরে শুনেছেন ডাকাতরা ঘর বাড়ি ভাঙচুর করেছে।অপর দুই অভিযুক্তের সঙ্গে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ঘটনাটির পেছনে দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধ থাকতে পারে। তবে অভিযোগের সত্যতা এবং হামলার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্তের বিকল্প নেই।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি অনুযায়ী হামলার কয়েকদিন পরও তারা নিরাপত্তাহীন অবস্থায় রয়েছেন। তাদের অভিযোগ, অভিযুক্তরা এখনও বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। ফলে নারী ও শিশুরা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
এ অবস্থায় এলাকাবাসীর প্রশ্ন—যদি একটি পরিবার হামলা র পরও নিরাপত্তাহীন অবস্থায় খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাতে বাধ্য হয়, তবে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে কে?
ভুক্তভোগী পরিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী,বান্দরবানের জেলা প্রশাসক পুলিশ সুপার,লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাস নের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।তারা অবিলম্বে নির পেক্ষ তদন্ত,দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা,ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বসতঘরপুনর্নির্মাণে প্রয়োজনীয় সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিবেদকের মন্তব্য: অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এলাকায় আইনের শাসনের প্রতি মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।