নিজস্ব প্রতিবেদক”
*লক্ষ্মীপুর, ১১ মে ২০২৬:* পবিত্র ঈদুল ফিতর-২০২৬ উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক আয়োজিত রেমিট্যান্স উৎসবের পুরস্কার বিজয়ী গ্রাহকদের নিয়ে “সংবর্ধনা ও মতবিনিময় সভা” আজ সোমবার, ১১ মে ২০২৬ খ্রি. সকাল ১১:৪৫ মিনিটে শাখা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক দিঘলী বাজার শাখার ব্যবস্থাপক জনাব দেলাওয়ার হোসাইন (মুখ্য কর্মকর্তা)। প্রধান অতিথি হিসেবে মঞ্চ আলোকিত করেন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, কুমিল্লা বিভাগীয় কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক (দায়িত্বে) জনাব মোঃ ফাতেহ খান।
বিশেষ অতিথি ছিলেন লক্ষ্মীপুর মুখ্য আঞ্চলিক কার্যালয়ের মুখ্য আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (দায়িত্বে) জনাব মোঃ ফরিদ উদ্দিন এবং আঞ্চলিক নিরীক্ষা কার্যালয়ের আঞ্চলিক নিরীক্ষা কর্মকর্তা জনাব মোঃ আব্দুল কাইয়্যুম। এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন দিঘলী ইউনিয়ন পরিষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান এবং এই ব্যাংকের গ্রাহক জনাব মোঃ গোলাম সারওয়ার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন শাখার ২য় কর্মকর্তা জনাব তন্ময় ভৌমিক (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা)।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত কৃষি ব্যাংক দেশব্যাপী “রেমিট্যান্স উৎসব” পরিচালনা করে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বৈধ চ্যানেলে আনতে এবং গ্রাহকদের উৎসাহিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। দিঘলী বাজার শাখার যে সকল গ্রাহক এ সময়ে রেমিট্যান্স গ্রহণ করেছেন, কৃষি ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত লটারির মাধ্যমে তাদের মধ্য থেকে মোঃ জোবায়ের হোসেনকে পুরস্কৃত করা হয়। বিভাগীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে ছিলো স্যামসাং ব্র্যান্ডের মোবাইল সেট।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। কৃষক ও প্রবাসীদের কল্যাণে কৃষি ব্যাংক সর্বদা কাজ করে যাচ্ছে। বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠালে দেশ লাভবান হয়, গ্রাহকও লাভবান হয়। তাছাড়া রেমিট্যান্সের সক্ষমতা যেকোনো দেশকে বিশ্ববাণিজ্যে প্রতিযোগিতা করতে সাহায্য করে। ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ সংকটকালীন আদানি গ্রুপের দেনা পরিশোধে কৃষি ব্যাংক একা হাতে দায়িত্ব নিয়ে সরকারের পক্ষে সকল দেনা পরিশোধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। বর্তমানে সারাদেশে যতগুলো ব্যাংক রেমিট্যান্স আনয়নে কাজ করে, কৃষি ব্যাংক তন্মধ্যে প্রথম সারিতে আছে। এখনও পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে কৃষিব্যাংক রেমিট্যান্স আহরণে সর্বোচ্চ স্থানে।”
বিশেষ অতিথিবৃন্দের মধ্যে লক্ষ্মীপুর মুখ্য আঞ্চলিক কার্যালয়ের মুখ্য আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক জনাব মোঃ ফরিদ উদ্দিন বলেন, “দায়িত্ব নিয়ে বলছি, ব্যাংকিং খাতে এমন কোনো সেবা নেই যা বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক দেয় না। কৃষি ব্যাংক যেহেতু গণমানুষের ব্যাংক, এ ব্যাংকের অধিকাংশ শাখা যেহেতু গ্রাম-গঞ্জে ছড়িয়ে, মাঝখানে বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট এবং নানাবিধ কারণে ব্যাংকের সেবা বিঘ্নিত হয়েছে। তবে, প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে এখন প্রায় সকল শাখায় আস্তে আস্তে বিকল্প বিদ্যুৎ সংস্থাপনের (আইপিএস) কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে এখন থেকে কৃষি ব্যাংকের সকল শাখায় নিরবচ্ছিন্ন সেবা অব্যাহত থাকবে।”
লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক নিরীক্ষা কর্মকর্তা জনাব মোঃ আব্দুল কাইয়্যুম বলেন, “গ্রাহক সেবার মান বাড়লে ব্যাংকের প্রতি আস্থাও বাড়ে। দিঘলী শাখা রেমিট্যান্স গ্রাহকদের দ্রুত ও ঝামেলামুক্ত সেবা দেয় বলে জেনেছি। গ্রাহকদের বলব, আপনারা ব্যাংকের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। আপনাদের মাধ্যমে আরও মানুষ বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত হবে।”
শাখার গ্রাহক এবং দিঘলী ইউনিয়ন পরিষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান বলেন, “কৃষি ব্যাংকের এই শাখা উদ্বোধনের আগে আমরা প্রায় ১৫ কিলো দূরের জকসিন এবং হাজিরপাড়ায় গিয়ে ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করতাম। এই শাখা আমাদের জীবনযাত্রাকে অনেক সহজ করে দিয়েছে। ব্যংকিং সংক্রান্ত এমন কোনো কার্যক্রম নাই যা আমরা এখান থেকে পাই না। শাখার প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারী আন্তরিকতার সহিত আমাদের সেবা প্রদান করে থাকেন। অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত গ্রামের মানুষের কাছে কৃষি ব্যাংকের এ শাখাটি আশীর্বাদস্বরূপ।”
সভায় উপস্থিত পুরস্কার বিজয়ী গ্রাহক রেমিট্যান্স সেবা নিয়ে তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। ব্যাংক কর্মকর্তারা গ্রাহকদের বিভিন্ন সমস্যা শোনেন এবং দ্রুত সেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ভবিষ্যতে রেমিট্যান্স সেবা আরও সহজ করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানের সভাপতি তার সমাপনী বক্তব্যে সকল গ্রাহক ও অতিথিবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে। অনুষ্ঠানে শাখার সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিপুল সংখ্যক গ্রাহক উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক দিঘলী বাজার শাখার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করে সকলকে আপ্যায়নের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সমাপ্ত করা হয়।