March 28, 2026, 3:47 pm
শিরোনামঃ
রাজধানীর উত্তরায় ছিনতাইকারীর হ্যাঁচকা টানে রিকশা থেকে পড়ে গৃহবধূ নিহত জাতীয় ঈদগাহে থাকবে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা: ভারপ্রাপ্ত ডিএমপি কমিশনার ধর্ষণ মামলার আসামি ময়মনসিংহ জেলা মোটরযান শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক হান্নান গ্রেফতার হয়নি সিটিটিসি কর্তৃক ১ হাজার ৯৯৪ পিস ইয়াবা ও ১ কেজি গাঁজাসহ চিহ্নিত এক মাদক কারবারি গ্রেফতার ময়মনসিংহে কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী নাজিম মীর গ্রেফতার, ইয়াবা উদ্ধার এশিয়া ছিন্নমুল মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশন কুমিল্লা জেলা কমিটি আয়োজনে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত কর কর্মকর্তা তানজিনা সাথীকে সাময়িক বরখাস্ত মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে যেসব নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী বগুড়া সদর উপজেলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার বিতরণ পহেলা বৈশাখে টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ডের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
নোটিশঃ
আপনার আশেপাশের ঘটে যাওয়া খবর এবং আপনার ব্যবসার বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য যোগাযোগ করুন মানবাধিকার খবরে।

শাহজাদপুরে এক রিকশাচালকের মেয়ে মেডিকেলের স্বপ্নপূরণ

Reporter Name

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:

দারিদ্র্যকে হার মানিয়ে মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের চাঁদনী খাতুন। তাঁর বাবা চাঁদ আলী একজন রিকশাচালক, আর মা স্থানীয় একটি কারখানায় শ্রমিকের কাজ করেন। তিন ভাই-বোনের মধ্যে বড় চাঁদনী শত প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের স্বপ্নকে ছুঁয়ে দেখার জন্য নিরলস পরিশ্রম করেছেন।

শৈশবে পড়াশোনার প্রতি তেমন আগ্রহ না থাকলেও চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকে চাঁদনী পড়াশোনায় মনোযোগী হয়ে ওঠেন। কাকিলামারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিএসসি পরীক্ষায় বৃত্তি পান। এরপর পোতাজিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে অষ্টম শ্রেণিতেও বৃত্তি অর্জন করেন। পরে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে শাহজাদপুর সরকারি কলেজে উচ্চমাধ্যমিক শুরু করেন।

সংসারের অভাব-অনটনের কারণে বাবা-মা কাজে বাইরে থাকলে চাঁদনীকেই ছোট ভাই-বোনের দেখভালের দায়িত্ব নিতে হতো। পাশাপাশি তিনি অবসরে হস্তশিল্প তৈরিতেও পারদর্শী হয়ে ওঠেন। তবে দারিদ্র্য কখনও তাঁর স্বপ্নকে থামিয়ে রাখতে পারেনি।

চাঁদনীর বাবা চাঁদ আলী জানান, রিকশা চালিয়ে পরিবারের খরচ চালাতেই হিমশিম খেতে হতো, ফলে মেয়ের পড়াশোনার জন্য বাড়তি উৎসাহ দিতে পারেননি। তবে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বিভিন্নভাবে তাঁকে সহযোগিতা করেছেন, যা চাঁদনীকে এগিয়ে যেতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

চাঁদনী বলেন, আমরা গরিব, তাই বুঝি দারিদ্র্যের কারণে ভালো চিকিৎসা পাওয়া কত কঠিন। সেই কষ্ট থেকেই চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখি, যেন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি। কিন্তু মেডিকেলে পড়াশোনার খরচ চালানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

চাঁদনীর মেডিকেলে চান্স পাওয়ার খবরে যেমন তাঁর পরিবার আনন্দিত, তেমনি তাদের সামনে নতুন দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে—মেয়ের পড়াশোনার খরচ কীভাবে বহন করবেন? ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার পর টিউশন ফি, বইপত্র ও অন্যান্য খরচ চালানো তাঁদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চাঁদনী ও তাঁর পরিবার এখন সমাজের সহৃদয়বান ব্যক্তিদের সহায়তার প্রত্যাশায় রয়েছেন, যেন দারিদ্র্যের বাধা পেরিয়ে একজন মেধাবী শিক্ষার্থী তাঁর স্বপ্নপূরণ করতে পারেন এবং একদিন অসহায় মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে পারেন।
শাহজাদপুরের সহৃদয়বান ব্যক্তিবর্গ অনুগ্রহ করে সহযোগিতায় এগিয়ে আসুন এবং এই মেধার বিকাশে সাহায্য করুন।



Our Like Page
Developed by: BD IT HOST